লিটারে ২০ টাকা পর্যন্ত মহার্ঘ্য হতে পারে পেট্রোল-ডিজেল! মধ্যবিত্তের পকেটে বড় কোপ পড়ার আশঙ্কা

একদিকে যুদ্ধ আর অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের লাফ—এই দুই সাঁড়াশী চাপে দিশেহারা ভারতের জ্বালানি বাজার। ইরান ও আমেরিকার শান্তি আলোচনা এখনও কোনো স্থায়ী সমাধানে না পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপভোক্তাদের জন্য অশনি সংকেত দিল বিখ্যাত আর্থিক সংস্থা Emkay Global Financial Services

📉 কেন বাড়বে দাম? এমকে গ্লোবাল-এর বড় তথ্য

সংস্থার রিপোর্টে জানানো হয়েছে, বিশ্বের জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে ভারত সামনের সারিতে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি পরিবহণকারী জাহাজগুলো আটকে রয়েছে। এই সংকটের জেরে:

  • প্রাথমিকভাবে লিটার প্রতি ১০ টাকা দাম বাড়তে পারে।

  • যদি আগামী দুই থেকে তিন ত্রৈমাসিক পর্যন্ত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকে, তবে খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

সরকার মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলেও, তেল বিপণন সংস্থাগুলির বিশাল লোকসান সামাল দিতে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

🚨 অন্ধ্রপ্রদেশে হাহাকার: বন্ধ ৪২১টি পেট্রোল পাম্প!

জ্বালানি সংকটের খবরের রেশ ধরে ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশে শুরু হয়েছে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার হিড়িক। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু।

  • রাজ্যে সাময়িকভাবে ৪২১টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • কোথা থেকে এই জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ভুয়ো খবর বা গুজব ছড়াল, তা জানতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

🔍 সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্য পরিবহণে। ফলে শাকসবজি থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক স্থিতাবস্থা না ফিরলে এই বছরের শেষভাগ ভারতের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে।