বলিউড মিউজিক ডিরেক্টরের ফোন ব্লক! বড় সিনেমার অফার ছেড়ে কেন বিড়ম্বনায় আরমান খান?

হায়দরাবাদের এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় মেতে উঠেছিল ক্ল্যাসিক্যাল ও সিনেমার গানের সুর। কিন্তু তার মাঝেই বোমা ফাটালেন শিল্পী আরমান খান। ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানালেন, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার সুপারহিট গান ‘গেহেরা হুয়া’-তে তাঁর কোনও অবদান নেই। অথচ গানের ক্রেডিটে অরিজিৎ সিংয়ের পাশাপাশি জ্বলজ্বল করছে তাঁর নাম!
কেন একে ‘স্ক্যাম’ বললেন আরমান? আরমানের দাবি, “সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেবের টিম আমাকে কিছু গান শুনিয়েছিল, যা আমার ঘরানার ছিল না। আমি না বলে দিই। অনুরোধের খাতিরে কিছু সরগম ও তান করে দিলেও বলেছিলাম আমার নাম না দিতে। কিন্তু গান মুক্তির পর দেখি আমার নাম রয়েছে! এমনকি অরিজিৎ দাদাও অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি আমার আওয়াজ পাননি কেন? এটা স্রেফ পাবলিসিটি পাওয়ার জন্য একটা প্রতারণা বা স্ক্যাম।”
রাগের মাথায় হাতছাড়া বড় সুযোগ: এই ঘটনায় আরমান এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে সঙ্গীত পরিচালকের পুরো টিমকে হোয়াটসঅ্যাপে মিউট করে দেন। এর ফলে ‘ধুরন্ধর ২’-তে অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে গান গাওয়ার প্রস্তাব এলেও তা খেয়াল করেননি তিনি। তবে এ নিয়ে তাঁর বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই। তাঁর মতে, “সোল (Soul) বা আত্মা নেই এমন গান গাইতে আমি রাজি নই।”
সাক্ষাৎকারের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক:
-
লাইভ কনসার্টে লিপ-সিঙ্ক বিতর্ক: ইদানিং অনেক শিল্পী লাইভে এসে রেকর্ড করা গান চালিয়ে ‘লিপ সিঙ্ক’ করেন। আরমান একে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি ‘চিটিং’ বা প্রতারণা বলে মনে করেন।
-
এআই (AI) কি গায়কদের জায়গা নেবে? আরমানের সপাট উত্তর, “এআই মানুষেরই তৈরি। মানুষের গলায় যে আবেগ ও সূক্ষ্ম কাজ থাকে, এআই তা কখনও ছুঁতে পারবে না। ওটা একটা যান্ত্রিক আওয়াজ মাত্র।”
-
বাবা আজও পাশে আছেন: বাবা উস্তাদ রশিদ খান সম্পর্কে বলতে গিয়ে আরমান সবসময় বর্তমান কাল (Present Tense) ব্যবহার করেন। তাঁর বিশ্বাস, বাবা আজও তাঁকে গাইড করছেন। ১লা জুলাই বাবার জন্মদিনেও প্রতি বছরের মতো মটন বিরিয়ানি আর শামি কাবাবের ভোজে মাতবেন তাঁরা।
-
রাজনীতি ও উন্নয়ন: ভোট প্রসঙ্গে আরমান বলেন, হিন্দু-মুসলিম বিভেদ স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা। তিনি এমন একজন শিক্ষিত শাসক চান, যিনি রাজ্যের প্রকৃত উন্নতি করবেন।
নিজের শর্তে বাঁচা এবং আপসহীন সংগীতচর্চাই যে আরমানের মূল লক্ষ্য, তা এই সাক্ষাৎকারে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।