“৪ মে-র পর আমি আসছি, তৈরি থাকুন!” ব্যারাকপুর থেকে বাংলায় বড় ঘোষণা মোদীর

নির্বাচনের ময়দানে আর কোনও লুকোছাপা নয়! বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ব্যারাকপুরের মাটি থেকে সরাসরি ‘সরকার গড়ার’ দাবি তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার প্রচারের শেষ সভায় দাঁড়িয়ে তাঁর ঘোষণা, আগামী ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পর তিনি আবারও বাংলায় ফিরবেন। তবে এবার আর প্রচার করতে নয়, বরং বিজেপির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে!
প্রথম দফার ভোটেই জয়ের গন্ধ? বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, প্রথম দফার ১৫২টি আসনের মধ্যেই ১০০-র বেশি আসন পকেটে পুরেছে গেরুয়া শিবির। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের যেখানেই গিয়েছি, মানুষের মেজাজ বুঝতে পেরেছি। আমার পূর্ণ বিশ্বাস ৪ মে-র পর আমাকে আবার আসতে হবে।” মোদীর এই আত্মবিশ্বাসী সুর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।
ব্যারাকপুরের ময়দানে ত্রিমুখী লড়াই: এদিন ব্যারাকপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর সমর্থনে জনসভা করেন মোদী। উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে লড়াই কিন্তু হাড্ডাহাড্ডি। একদিকে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিধায়ক-পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, অন্যদিকে বাম প্রার্থী সুমন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের মাঝেই মোদীর সভা স্থানীয় ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
আধ্যাত্মিক টান ও ‘বন্দে মাতরম’ মন্ত্র: এদিনের সভা থেকে বাংলার সঙ্গে নিজের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক যোগের কথা আবারও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বাংলা আমার আধ্যাত্মিক যাত্রার এনার্জি সেন্টার।” পাশাপাশি তাঁর বার্তা, স্বাধীনতা সংগ্রামের শক্তি ‘বন্দে মাতরম’ যেন একবিংশ শতাব্দীতে বাংলার পুনর্গঠনের মূল মন্ত্র হয়ে ওঠে।
৯১ শতাংশ ভোটের রহস্য কী? নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফায় বাংলায় রেকর্ড ৯১.৭৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিপুল ভোটদানের হার পরিবর্তনের ইঙ্গিত নাকি ক্ষমতা ধরে রাখার প্রতিফলন, তা স্পষ্ট হবে ৪ মে।
আপাতত ২৯ এপ্রিলের দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। মোদীর দাবি সত্যি হবে কি না, তার উত্তর মিলবে আর মাত্র কয়েক দিন পরেই।