“আর কোনো ন্যায়বিচারের আশা নেই!” বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা কেজরিওয়ালের, নেপথ্যে কোন কারণ?

আবগারি নীতি মামলায় দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আইনি লড়াই এবার এক নয়া এবং নজিরবিহীন মোড় নিল। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার এজলাসে চলমান সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া বয়কটের ঘোষণা করলেন তিনি। বিচারপতিকে লেখা একটি চিঠিতে কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, তাঁর আর এই আদালতের ওপর কোনো আস্থা নেই।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
কেজরিওয়ালের এই বয়কটের সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ উঠে এসেছে:
-
স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ: কেজরিওয়ালের দাবি, বিচারপতি স্বর্ণকান্তা শর্মার সন্তানরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। ফলে এই মামলায় নিরপেক্ষ বিচার হওয়া সম্ভব নয়।
-
আবেদন খারিজ: এর আগে কেজরিওয়াল এই মামলাটি অন্য কোনো এজলাসে সরানোর (Recusal) আবেদন করেছিলেন। কিন্তু গত ২০ এপ্রিল বিচারপতি সেই আবেদন খারিজ করে দেন এবং কেজরিওয়ালের মনোভাব নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন।
-
আরএসএস ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ: চিঠিতে কেজরিওয়াল বিচারপতির একটি বিশেষ আইনি সংগঠনের (ABAP) অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন, যা আদর্শগতভাবে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
“গান্ধীর সত্যাগ্রহই পথ”
নিজের এই পদক্ষেপকে কোনো বিদ্রোহ নয়, বরং ‘সত্যাগ্রহ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কেজরিওয়াল। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমার বিবেক বলছে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা আর সম্মানজনক নয়। আমি জানি এর ফলে আমার আইনি ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু আমি সেই পরিণাম ভোগ করতে প্রস্তুত।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে, তিনি বা তাঁর আইনজীবীরা আর এই এজলাসের কোনো শুনানিতে অংশ নেবেন না।
বিচারপতির পাল্টা পর্যবেক্ষণ
যদিও এর আগে বিচারপতি শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, কোনো রাজনীতিবিদের কথায় বিচারবিভাগীয় কাজ থমকে যেতে পারে না। তিনি কেজরিওয়ালের অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং ‘আদালতের সম্মানহানির চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
পরবর্তী ধাপ কী?
কেজরিওয়ালের এই বয়কটের ফলে মামলাটি এখন আরও জটিল আকার নিল। তিনি জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা রাখছেন। তবে নিম্ন আদালত থেকে এই মামলায় ‘ডিসচার্জ’ বা অব্যাহতি পাওয়ার পর সিবিআই-এর চ্যালেঞ্জের মুখে কেজরিওয়ালের এই পদক্ষেপকে বড় রাজনৈতিক বাজি হিসেবে দেখছে বিশেষজ্ঞ মহল।