“বড় বড় পাথর ছুড়েছে, কোনোমতে প্রাণে বেঁচেছি”, হুগলিতে আক্রান্ত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাংসদ মিতালি

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের শেষলগ্নের প্রচারে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হুগলি। সোমবার সকালে আরামবাগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাই-ভোল্টেজ জনসভা হওয়ার কথা। কিন্তু সেই সভার আগেই তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগের ওপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠল।

পাথর বৃষ্টি ও ভাঙচুর
অভিযোগ, প্রচারের কাজে যাওয়ার সময় আচমকাই একদল দুষ্কৃতী মিতালি বাগের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও বড় বড় পাথর ছুড়তে শুরু করে। পাথরের আঘাতে গাড়ির কাঁচ চুরমার হয়ে যায়। সাংসদ নিজেও এই হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি।

ক্যামেরার সামনে হাউহাউ করে কান্না
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ভেঙে যাওয়া গাড়ি দেখিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিতালি বাগ। তিনি বলেন:

“আমার গাড়ির অবস্থা দেখুন। ওরা বড় বড় পাথর ছুড়েছে। আমি কোনো রকমে আজ প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। কেন আমার ওপর এই হামলা?”

রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোটের মুখে সাংসদ স্তরের একজন জনপ্রতিনিধির ওপর এই হামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে পৌঁছেছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের দাবি, জনসভার জনজোয়ার দেখে ভয় পেয়েই বিরোধীরা এই ধরণের হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে তৃণমূলের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

আরামবাগের এই ঘটনার পর এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ঘটনার রিপোর্ট তলব করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। অভিষেকের সভার আগে এই হামলাকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে হুগলির রাজনীতি।