“গোঘাটে মিতালি বাগের গাড়ি ভাঙচুর”-ফেসবুক লাইভে অঝোরে কান্না সাংসদের

সোমবার ভরদুপুরে রণক্ষেত্র হুগলির আরামবাগ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়লেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালি বাগ। তাঁর গাড়িতে ইটবৃষ্টি ও লাঠি দিয়ে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় রীতিমতো রক্তাক্ত হয়েছেন সাংসদ।

কী ঘটেছিল? আজ আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইভোল্টেজ সভা। সেই সভাতেই যোগ দিতে যাচ্ছিলেন মিতালি বাগ। অভিযোগ, মাঝপথে আচমকাই তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলে একদল দুষ্কৃতী। লাঠি ও ইট দিয়ে গাড়ির সামনের কাচ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় গাড়ির ভেতরেই ছিলেন সাংসদ। ভেঙে যাওয়া কাচ ছিটকে এসে তাঁর শরীরে বিঁধে যায়।

ফেসবুক লাইভে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিতালি: আক্রান্ত হওয়ার ঠিক পরেই গাড়ি থেকে ফেসবুক লাইভ করেন মিতালি বাগ। সেখানে কাঁদতে কাঁদতে তাঁকে বলতে শোনা যায়,

“আমাকে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছে। আমি কোনো দোষ করিনি, শুধু সভায় যাচ্ছিলাম। এর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন আর অমিত শাহ। তাঁদের উস্কানিতেই বিজেপি কর্মীরা এই সাহস পেয়েছে। আরামবাগের মানুষ ব্যালট বক্সে এর জবাব দেবে।”

কমিশনের কড়া দাওয়াই: ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সিইও (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়াল এই ঘটনায় দ্রুত এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ৫ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো, তার রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

পাল্টা দাবি বিজেপির: সাংসদ মিতালি বাগকে বর্তমানে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শরীরে বিঁধে থাকা কাচ বের করে চিকিৎসা শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “ভোটের আগে নিশ্চিত হার বুঝতে পেরে এখন নাটক ও ছলনার আশ্রয় নিচ্ছেন সাংসদ।”

অভিষেকের সভার আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক পারদ এখন সপ্তমে। দোষীদের চিহ্নিত করতে এলাকায় শুরু হয়েছে পুলিশি তল্লাশি।