ভুয়ো ভোট দিলেই ১ বছরের জেল! দ্বিতীয় দফায় ‘রেড জোন’ ঘিরে নজিরবিহীন কড়া কমিশন

প্রথম দফার অভিজ্ঞতায় শাণ দিয়ে এবার দ্বিতীয় দফার ভোটে রণংদেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের সাত জেলায় ভোটগ্রহণ। আর তার আগেই সন্ত্রাস আর কারচুপি রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করল কমিশন। এবার শুধু সতর্কবার্তা নয়, সরাসরি জেলের ঘানি টানার নিদান দেওয়া হয়েছে।
ভুয়ো ভোটারদের জন্য অপেক্ষা করছে অন্ধকার সেল
কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এদিন কেউ যদি অন্যের নামে ভোট দিতে বা ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ধরা পড়ে, তবে তাকে সরাসরি ১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। ছাপ্পা ভোট এবং রিগিং রুখতে বুথে বুথে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। যদি ক্যামেরার ফুটেজে কোনো সন্দেহভাজন ধরা পড়ে, তবে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালিকায় ‘রেড জোন’: নজরে ভাঙড় থেকে বারাকপুর
অতীতের ভোট সন্ত্রাসের ক্ষত মুছতে এবার ‘রেড জোন’ স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে কমিশন। যে সমস্ত এলাকায় অশান্তির ইতিহাস রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। কমিশনের তৈরি এই রেড জোনের তালিকায় রয়েছে:
ভাঙড়
ব্যারাকপুর
আরামবাগ
খানাকুল
কাকদ্বীপ এই এলাকাগুলিতে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, আকাশপথে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। এছাড়া বুথের ১০০ মিটারের গণ্ডিকে ‘লক্ষণরেখা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পার করলেই কড়া ব্যবস্থা।
পুলিশ-প্রশাসনকে কড়া বার্তা
ভোটের মুখে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমাবাজির খবর আসায় উদ্বিগ্ন কমিশন। সূত্রের খবর, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সামান্য গাফিলতিও বরদাস্ত করা হবে না। সেক্টর অফিসার থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিক— প্রত্যেকের ওপর দায়ভার নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
২৯ এপ্রিল কোথায় কোথায় ভোট?
দ্বিতীয় তথা শেষ দফায় ভোটগ্রহণ হবে দক্ষিণবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলিতে:
১. উত্তর ২৪ পরগনা
২. দক্ষিণ ২৪ পরগনা
৩. হাওড়া
৪. হুগলি
৫. নদিয়া
৬. পূর্ব বর্ধমান
৭. কলকাতা
কমিশনের এই কড়াকড়িতে শেষ পর্যন্ত ভোট কতটা শান্তিতে কাটে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।