ঝড়-বৃষ্টির সময় গাছের তলায় দাঁড়ানোই কি কাল হলো? খড়গ্রামে বাজ পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু মহিলাসহ দুই শ্রমিকের!

বৈশাখের তপ্ত দুপুরে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও, তা অভিশাপ হয়ে আছড়ে পড়ল মুর্শিদাবাদে। আবহাওয়া দফতরের দেওয়া কালবৈশাখীর পূর্বাভাস মিলিয়ে রবিবার বিকেলে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি। আর সেই দুর্যোগের কবলে পড়েই বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন দুই জন। গুরুতর জখম অবস্থায় আরও তিন জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বটতলায় আশ্রয় নিতেই চরম পরিণতি:
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রাম থানার বরার গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, রবিবার বিকেলে আচমকা আকাশ কালো করে কালবৈশাখী শুরু হলে পথচলতি বেশ কয়েকজন বরার গ্রামের একটি বড় বটগাছের নীচে আশ্রয় নেন। ঠিক সেই সময়ই গাছের ওপর ভয়াবহ বজ্রপাত ঘটে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন পাঁচ জন। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা দুই জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতদের পরিচয়:
হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, মৃতদের নাম শরানন দাস এবং সাবিত্রী ঘোষ। শরাননের বাড়ি কল্যাণপুরে এবং সাবিত্রী বরার গ্রামেরই বাসিন্দা ছিলেন। আহত বাকি তিন জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের কান্দি মহকুমা হাসপাতালেই কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার:
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় রাজমিস্ত্রি শরানন কাজ সেরে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় তিনি গাছের নীচে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্যদিকে, সাবিত্রী ঘোষও কাজ সেরে ফেরার পথে দুর্যোগের মুখে পড়ে ওই বটতলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। সামান্য একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে গিয়ে যে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি তাঁদের পরিবার। এই ঘটনায় বর্তমানে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সতর্কবার্তা:
আবহাওয়া দফতর বারবার জানাচ্ছে, ঝড়-বৃষ্টির সময় বড় গাছ বা ইলেকট্রিক পোল থেকে দূরে থাকা উচিত। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গাছের তলায় দাঁড়ানো যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা আবারও সেই ভয়াবহ স্মৃতি উসকে দিল।