“বস্তিতে বস্তিতে ৫ হাজার টাকা!” ভবানীপুরে বড় আশঙ্কার কথা শোনালেন মমতা!

রাজ্যে ভোটযুদ্ধ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। এরই মাঝে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে এক বিস্ফোরক আশঙ্কার কথা শোনালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার খিদিরপুরের মনসাতলায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সভা থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘টাকা ছড়ানোর’ অভিযোগ আনলেন তিনি।
বস্তিতে টাকা ও ‘গদ্দার’ হুঙ্কার
এদিন জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্কবার্তার সুরে বলেন, “আমার কাছে খবর আছে, বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে গদ্দারের লোকেরা ৫ হাজার টাকা করে দেবে এবং বলবে ভোট দিতে। পরে ওরাই আবার গালাগাল করবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মূলত ‘গদ্দার’ শব্দবন্ধ প্রয়োগ করে তিনি যে শুভেন্দু অধিকারী বা দলত্যাগীদের নিশানা করেছেন, তা স্পষ্ট।
পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তোপ
শুধুমাত্র টাকা বিলিই নয়, এদিন স্থানীয় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন:
-
এখানকার পুলিশও এখন বিজেপির লোক হয়ে গিয়েছে, তারা আমাকে ভুলে গিয়েছে।
-
ভোটের দিন এলাকায় অশান্তি বা দাঙ্গা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করার চক্রান্ত চলছে।
-
ভোটারদের প্রতি তাঁর অনুরোধ, “আপনারা কোনো প্ররোচনায় পা দেবেন না, শান্তি বজায় রাখুন।”
ইভিএম পাহারা ও ‘ডাবল সেঞ্চুরি’-র হুঙ্কার
ইভিএম বা ভোটযন্ত্রে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে মমতা বলেন, “মেশিন খারাপ করে ভোট চুরির পরিকল্পনা রয়েছে। ভোট থেকে গণনা পর্যন্ত প্রয়োজনে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রেখে মেশিন পাহারা দিন।”
পাশাপাশি জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী নেত্রী দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটেই তৃণমূল ১০০-র বেশি আসন নিশ্চিত করে ফেলেছে। দ্বিতীয় দফা শেষ হতেই সেই সংখ্যা ২০০ পার অর্থাৎ ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ করবে বলে তাঁর দাবি।