“৫ হাজার টাকা দিয়ে বলবে ভোট দাও, খবর আছে আমার কাছে!” বিস্ফোরক মমতা, নিশানায় বিজেপি ও ‘গদ্দার

শেষ দফার প্রচারের প্রাক্কালে ভবানীপুরের লড়াইয়ে পারদ চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ক্যামাক স্ট্রিট এবং মনসাতলা মোড়ের সভা থেকে সরাসরি বিজেপি ও তাঁর প্রাক্তন সতীর্থদের (যাঁদের তিনি ‘গদ্দার’ বলে অভিহিত করেন) বিরুদ্ধে টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার গুরুতর অভিযোগ তুললেন তিনি।
টাকা ও ‘মিরজাফর’ তত্ত্ব
এদিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ঢঙে বলেন, “বস্তিতে বস্তিতে ৫ হাজার করে টাকা পাঠানো হবে। কোনো গদ্দারের কাছ থেকে সেই টাকা যাবে। মনে রাখবেন, যারা টাকার কাছে বিক্রি হন তাঁরাই মিরজাফর।” ভোটারদের প্রলোভনে পা না দেওয়ার আর্জি জানানোর পাশাপাশি তাঁর দাবি, ওড়িশা থেকে ৩০০ কোটি টাকা রাজ্যে ঢোকানো হয়েছে এবং এই কালো টাকা আনতেই পরিকল্পিতভাবে পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে।
শাহ-কে পাল্টা তোপ: “বস্তিতে কি মেধাবী নেই?”
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মন্তব্য করেছিলেন যে, মমতাজির আমলে কলকাতা ‘ঝুপড়ি’তে পরিণত হয়েছে। এর পাল্টা দিয়ে নেত্রী বলেন, “হোম মিনিস্টার বলেছেন কলকাতাকে আমি ঝুপড়ি বানিয়েছি। তাতে কী? কলকাতায় কি গরিব লোক থাকবে না? বস্তি থেকে কি ইঞ্জিনিয়ার বা আইএএস হয় না? আমরাও গ্রামে জন্মেছি।” সাধারণ মানুষের আত্মমর্যাদায় আঘাত দেওয়ার জন্য তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে তুলোধনা করেন।
ইভিএম ও নাকা চেকিং নিয়ে সতর্কতা
ভোটের দিন ইভিএম-এ কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি ভোটারদের সতর্ক করেন:
-
চিপ লাগানো মেশিন: “কোনো মেশিন খারাপ হলে ভোট দেবেন না, ওরা চিপ লাগিয়ে দিতে পারে।”
-
ইভিএম পাহারা: ভোট শেষ হওয়া থেকে শুরু করে গণনাকেন্দ্র পর্যন্ত ইভিএম কড়া পাহারায় রাখার নির্দেশ দেন দলীয় কর্মীদের।
-
কালো স্করপিও-র রহস্য: ভবানীপুরে একটি কালো রঙের স্করপিও গাড়ির গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, পুলিশ নিরপেক্ষ থাকলে অনেক আগেই এই বেআইনি কারবার ধরা পড়ে যেত।
NRC ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় দাঁড়িয়ে মমতার আশ্বাস, কোনোভাবেই রাজ্যে এনআরসি (NRC) কার্যকর হতে দেবেন না তিনি। সেই সঙ্গে ওয়াকফ সম্পত্তি জবরদখল রুখতেও তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান। কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর শেষ বার্তা— “মাথা ঠান্ডা রেখে একদিন কাজ করুন, বিজেপিকে শূন্য বানাবই।”