‘কান্তারা’ কাণ্ডে বড় মোড়: চার সপ্তাহের মধ্যে মন্দির দর্শনের নির্দেশ রণবীরকে! না মানলে বড় বিপদ?

বলিউডের ‘এনার্জি বম্ব’ রণবীর সিং এবার আইনি গ্যাঁড়াকলে। ‘কান্তারা’ ছবির দেবতাকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে কড়া শর্ত দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। স্রেফ ক্ষমা চেয়েই পার পাচ্ছেন না অভিনেতা, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে সশরীরে হাজির হতে হবে মন্দিরে।
কী নির্দেশ দিল হাইকোর্ট?
শনিবার কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি এম নাগাপ্রসন্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অভিনেতা ক্ষমা প্রার্থনা করলেও তাঁকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মহীশূরের চামুণ্ডী হিল মন্দিরে গিয়ে দেবতাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে রণবীরকে।
বিচারপতি এজলাসে বলেন:
“আমি যখন মামলাটি নিষ্পত্তি করব, তখন রেকর্ডেই লিখে দেব যে, তাঁকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্দির দর্শন করতে হবে। তারকাদের আচরণে সতর্কতা প্রয়োজন।”
রণবীরের আইনজীবীরা ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও নিরাপত্তার অজুহাত দিলেও আদালত তা গ্রাহ্য করেনি। অভিযোগকারীর আইনজীবী প্রশান্ত মেথাল দাবি করেন, এই রায় অন্য তারকাদের কাছে সতর্কবার্তা হওয়া উচিত যাতে তাঁরা ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে মন্তব্য করার আগে দুবার ভাবেন।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
ঘটনাটি গত বছরের। গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৪তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFI) ঋষভ শেট্টির ব্লকবাস্টার ছবি ‘কান্তারা’-র প্রশংসা করতে গিয়েছিলেন রণবীর। সেখানে উত্তেজনার বশে তিনি ‘চামুণ্ডা দৈব’-কে ‘ভূত’ (Ghost) বলে উল্লেখ করেন এবং বিচিত্র মুখভঙ্গি করে মিমিক্রি করেন।
এই ভিডিও ভাইরাল হতেই দক্ষিণ ভারতের ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কর্ণাটকের সংস্কৃতিতে ‘দৈব’ অত্যন্ত পবিত্র ও শ্রদ্ধার আসন পায়। রণবীরের এই আচরণকে ‘অসংবেদনশীল’ আখ্যা দিয়ে বেঙ্গালুরুর এক আইনজীবী এফআইআর দায়ের করেন।
ভবিষ্যৎ কী?
আদালত জানিয়েছে, এই চার সপ্তাহের সময়সীমার মধ্যে রণবীর সিং মন্দির দর্শন সম্পন্ন করলে তবেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা এফআইআর আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। এখন দেখার, ‘রামায়ণ’-এর শুটিং আর ব্যস্ত শিডিউলের মাঝে রণবীর কবে মহীশূরের উদ্দেশে রওনা দেন।