নিরাপত্তায় এক চুলও ছাড় নয়! কলকাতায় রেকর্ড কিউআরটি, স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিমেও নয়া চমক কমিশনের

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার নিরাপত্তা বলয় আরও আঁটোসাঁটো করল নির্বাচন কমিশন। এবার কমিশনের বিশেষ নজরে রয়েছে কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলা। বিশেষ করে তিলোত্তমার বুথে বুথে যাতে কোনো অশান্তি না হয়, তার জন্য রেকর্ড সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (QRT) নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার ‘এপিসেন্টার’ কলকাতা

কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে কলকাতা পুলিশের অধীনেই সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন থাকছে।

  • QRT: কলকাতায় থাকছে সর্বাধিক ২২৯টি টিম।

  • FST ও SST: ৫৭টি করে ফ্লাইং স্কোয়াড এবং স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিম নজরদারি চালাবে শহরের প্রতিটি অলিগলিতে।

জেলাভিত্তিক কুইক রেসপন্স টিমের (QRT) খতিয়ান:

কমিশন যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে:

  • পূর্ব বর্ধমান: ২২৮টি টিম (সঙ্গে ৫৩টি FST ও ৪৮টি SST)।

  • হুগলি গ্রামীণ: ২০৪টি টিম।

  • বারুইপুর ও কৃষ্ণনগর: উভয় জেলাতেই ১৩৮টি করে টিম।

  • ব্যারাকপুর কমিশনারেট: ১৩৫টি টিম।

  • ডায়মন্ড হারবার: ১১৯টি টিম।

এছাড়াও হাওড়া গ্রামীণ (১২৬), রানাঘাট (১১০), বসিরহাট (১০৮) এবং সুন্দরবন (৯৯) এলাকাতেও মোতায়েন থাকছে বিশাল কিউআরটি বাহিনী।

টিমে কারা থাকছেন?

প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) ও স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিমে (SST) থাকছে বিশেষ বিন্যাস। প্রতিটি টিমে থাকবেন ৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং রাজ্য পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর বা এএসআই র‍্যাঙ্কের অফিসার। তবে কমিশনের কড়া নির্দেশ— রাজ্য পুলিশ কোনো কারণে না থাকলেও জিপিএস লোকেশন ট্র্যাক করে এই দলগুলো নিজেরাই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

কেন এই বাড়তি সতর্কতা?

বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে হোটেলে গোপন বৈঠকের অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক পুলিশ অবজারভারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে কমিশন। এছাড়া ভোট পরবর্তী হিংসা বা গোলমাল রুখতে প্রযুক্তি ও বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের মূল লক্ষ্য— ভোটারদের ভয়মুক্ত পরিবেশে বুথমুখী করা।