বাংলায় গণতন্ত্র নেই, শুধু সন্ত্রাস!” দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় মমতাকে নজিরবিহীন আক্রমণ রাহুল গান্ধির, ভাঙনের মুখে জোট?

একদিকে কলকাতায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও তেজস্বী যাদবের মতো হেভিওয়েট নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের ডাক দিচ্ছেন, অন্যদিকে দিল্লির শীর্ষ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির গলায় শোনা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত সুর। আসানসোলে এক কংগ্রেস কর্মী খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাহুল। এই ঘটনা লোকসভা নির্বাচনের আবহে জাতীয় স্তরের ‘INDIA’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।

রাহুলের বিস্ফোরক অভিযোগ আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের নৃশংস খুনের ঘটনায় শোকপ্রকাশ করতে গিয়ে মেজাজ হারান রাহুল গান্ধি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীদের হাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ওই কংগ্রেস কর্মী। রাহুল বলেন, “বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নয়, বরং সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভোটের পর বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে রাখতে ভয় দেখানো এবং হামলার রাজনীতি চলছে।” নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

কলকাতায় উল্টো ছবি রাহুল যখন আসানসোলের রক্ত নিয়ে সরব, ঠিক সেই সময় কলকাতার রাজপথে তৃণমূলের প্রচারে অংশ নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বিহারের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব। তাঁদের উপস্থিতিতে জোটের ঐক্য প্রদর্শনের চেষ্টা করা হলেও, রাহুলের এই আক্রমণ সেই ঐক্যের ফানুস ফুটো করে দিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভাঙনের মুখে INDIA জোট? একই জোটে থেকেও বাংলায় কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই সাপে-নেউলে সম্পর্ক নতুন নয়। তবে নির্বাচনের এই সন্ধিক্ষণে রাহুলের সরাসরি ‘সন্ত্রাস’ ও ‘গণতন্ত্রহীনতা’র অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে বড় অস্বস্তিতে ফেলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্য রাজনীতিতে নিজেদের জমি ধরে রাখতে রাহুল যে তৃণমূলকে একচুল ছাড় দিতে রাজি নন, তা এই আক্রমণের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেল।

ভোটের ফল প্রকাশের পর এই তিক্ততা জোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।