ওয়াশিংটনে ডিনারের মাঝেই এলোপাথাড়ি গুলি! একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলেন ট্রাম্প ও মেলেনিয়া, উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এক ভয়াবহ হামলার ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। শনিবার রাতে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে নৈশভোজ চলাকালীন তাঁর সামনেই চলে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক্স (X) হ্যান্ডেলে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
কী লিখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী? হামলার খবর পাওয়ার পরেই মোদী তাঁর পোস্টে লেখেন, “ওয়াশিংটন ডিসির হোটেলে সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট নিরাপদ ও অক্ষত রয়েছেন জেনে আমি স্বস্তি পেয়েছি। আমি তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনা করি।” সেই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “গণতন্ত্রে হিংসার কোনও স্থান নেই। এই ধরনের ঘটনার অবশ্যই নিন্দা করা উচিত।”
নৈশভোজে বন্দুকবাজের হানা ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে তখন নৈশভোজে ব্যস্ত ট্রাম্প দম্পতি। অভিযোগ, ঠিক সেই সময় ৩১ বছর বয়সী এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এসে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ভেঙে গুলি চালাতে শুরু করে। সিক্রেট সার্ভিসের তৎপরতায় দ্রুত ট্রাম্প ও মেলেনিয়াকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বন্দুকবাজের নিশানায় সরাসরি ট্রাম্প ছিলেন নাকি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।
তিক্ততা ভুলে বন্ধুত্বের বার্তা সাম্প্রতিককালে ভারতকে ‘হেলহোল’ বা নরককুণ্ড বলে বিতর্ক উস্কে দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী আমেরিকায় থাকা ভারতীয়দের নিয়ে অপমানজনক মন্তব্যও করেছিলেন তিনি, যার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। তবে সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা সরিয়ে রেখে বিপদের দিনে ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী মোদী আবারও প্রমাণ করলেন ভারতের মহানুভবতা ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা।
হামলাকারী যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ট্রাম্প পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সাহসিকতার জন্যই আজ তিনি ও তাঁর পরিবার সুরক্ষিত রয়েছেন। তবে ওয়াশিংটনের হাই-প্রোফাইল হোটেলে এই নিরাপত্তা চ্যুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।