ওসি-আইসিদের জন্য ‘ডেডলাইন’! ভোটারদের ভয় দেখালে বা বোমা মিললে হবে বেনজির পরিণতি, কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

ভোটের বাংলায় এবার ‘অ্যাকশন’-এর মেজাজে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনো থানা এলাকায় ভোটারদের ভয় দেখানো হলে কিংবা বিস্ফোরক উদ্ধার হলে তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (OC) এবং আইসি (IC)-দের। এমনকি, গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁদের ‘বেনজির পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশকর্তাদের কাছে পৌঁছল ‘সতর্কবার্তা’

কমিশন সূত্রে খবর, রবিবার বিকেলেই কলকাতার পুলিশ কমিশনার, ডিসিপি এবং সব জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এই বিশেষ নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি থানার আইসি ও ওসি-দের সাফ জানানো হয়েছে—শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর প্রাথমিক দায়িত্ব তাঁদেরই। যদি দেখা যায় কোনো এলাকায় ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে, তবে সেই থানার প্রধান আধিকারিককে রেয়াত করা হবে না।

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও ‘জিরো টলারেন্স’

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:

  • অস্ত্র ও বিস্ফোরক: কোনো এলাকায় বোমা বা অস্ত্র উদ্ধার হলে সংশ্লিষ্ট ওসি-র বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • জব্দ করার নির্দেশ: নির্দেশিকা জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হুমকি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে এমন সমস্ত সামগ্রী ও আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে হবে।

  • জিরো টলারেন্স: আইনশৃঙ্খলা ভাঙার সামান্য চেষ্টা করা হলেও পুলিশকে কড়া হাতে তা দমন করতে হবে।

কেন এই ‘বেনজির’ হুঁশিয়ারি?

রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দফার ভোটের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। বিশেষ করে ভাঙড় বা নদিয়ার মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যাতে দ্বিতীয় দফায় কোনো অশান্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই পুলিশকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে কমিশন।

পুলিশের ওপর এই কড়াকড়ি ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে কতটা সাহায্য করে, ২৯ এপ্রিলের ব্যালট যুদ্ধেই তা পরিষ্কার হবে।