দেড় টনের এসি চালালে এক রাতে কত টাকার বিদ্যুৎ পোড়ে? মাসের শেষে পকেট বাঁচাতে আজই জেনে নিন আসল হিসেব!

প্যাচপ্যাচে গরমে এসি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয়তা। কিন্তু এসি কেনার পর সবার মনে যে ভয়টি কাজ করে তা হলো— মাস শেষে ইলেকট্রিক বিল কত আসবে? বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারে ১.৫ টনের এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই চিন্তা সবথেকে বেশি। দেড় টনের এসি এক রাতে কতটা কারেন্ট খায়? চলুন জেনে নিই সহজ অংকের হিসেব।

এক রাতে কত ইউনিট খরচ হয়? একটি ১.৫ টনের এসি প্রতি ঘন্টায় সাধারণত ১ থেকে ১.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে। তবে এটি নির্ভর করে আপনার এসির স্টার রেটিং এবং ঘরটি কতটা বড় তার ওপর।

  • আপনার এসি যদি ৫-স্টার ইনভার্টার মডেল হয়, তবে গড়ে ঘন্টায় প্রায় ১.২ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে।

  • এক রাতে যদি টানা ৮ ঘণ্টা এসি চলে, তবে আপনার মিটারে আনুমানিক ১০ থেকে ১৪ ইউনিট বিদ্যুৎ যোগ হবে।

মাসে কত টাকা বিল আসবে? বিদ্যুতের হার এলাকাভেদে ভিন্ন হলেও গড়ে যদি ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ধরা হয়:

  • এক রাতে ১০ ইউনিট পুড়লে খরচ হবে ৮০ টাকা

  • অর্থাৎ, পুরো মাস যদি প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে এসি চলে, তবে শুধুমাত্র এসির জন্যই আপনার বিল আসবে ২,৪০০ থেকে ৩,০০০ টাকা

ইনভার্টার বনাম নন-ইনভার্টার: কোনটি সাশ্রয়ী? দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য ইনভার্টার এসি সবসময়ই সেরা। ঘর একবার ঠান্ডা হয়ে গেলে ইনভার্টার এসির কম্প্রেসর বন্ধ না হয়ে খুব কম শক্তিতে চলতে থাকে। অন্যদিকে, নন-ইনভার্টার এসি বারবার চালু ও বন্ধ হওয়ার কারণে অনেক বেশি বিদ্যুৎ টানে। ফলে ইনভার্টার এসি ব্যবহারে বিল অনেকটাই কম আসে।

বিল কমানোর ৩টি অব্যর্থ টিপস: অনেকেই কনকনে ঠান্ডার জন্য এসি ১৬ বা ১৮ ডিগ্রিতে চালিয়ে রাখেন, যা পকেটের জন্য ক্ষতিকর। ১. সঠিক তাপমাত্রা: বিইই (BEE) এর মতে, এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখলে শরীরও আরামদায়ক থাকে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় সবথেকে বেশি। ২. ফ্যানের ব্যবহার: এসি চালানোর সময় হালকা গতিতে সিলিং ফ্যান চালিয়ে রাখুন। এতে ঠান্ডা হাওয়া ঘরের আনাচে-কানাচে দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে এবং কম্প্রেসরের ওপর চাপ কমবে। ৩. ফিল্টার পরিষ্কার: নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন। নোংরা ফিল্টার থাকলে ঘর ঠান্ডা হতে বেশি সময় লাগে, ফলে বিল বেশি আসে।