গড়িয়ায় হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড! ঘুমন্ত ছেলেকে পাশের ঘরে রেখে স্ত্রীকে খুনের পর উধাও অধ্যাপক স্বামী!

রবিবাসরীয় সকালে দক্ষিণ শহরতলির গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য। একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে এক মহিলার রহস্যজনক দেহ উদ্ধার করল পুলিশ। মৃতার নাম এনাক্ষী দাস। অভিযোগের তির তাঁর স্বামী তথা পেশায় অধ্যাপক সৌমিক দাসের দিকে, যিনি ঘটনার পর থেকেই পলাতক।

যেভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত প্রায় চার বছর ধরে গড়িয়া স্টেশন সংলগ্ন ওই আবাসনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকতেন এই দম্পতি। রবিবার সকালে তাঁদের পরিচারিকা রিঙ্কু অধিকারী কাজে এসে বারবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনও সাড়া পাননি। শেষে সন্দেহ হওয়ায় প্রতিবেশীর কাছ থেকে ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢোকেন তিনি।

ভিতরে ঢুকে তিনি দেখেন, একটি ঘরে মশারি টাঙানো বিছানার ওপর এনাক্ষী দেবীর নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সময় পাশের ঘরেই অঘোরে ঘুমিয়ে ছিল দম্পতির ৮ বছরের অসুস্থ সন্তান। মাকে যে কেউ খুন করে চলে গেছে, তা টেরও পায়নি একরত্তি শিশুটি।

পলাতক অধ্যাপক স্বামী
বাড়ির পরিচারিকা জানান, শনিবার রাত ৮টা নাগাদ তিনি এনাক্ষী দেবীকে ফোনে না পেয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সকালে ফ্ল্যাটে ঢুকে অধ্যাপক সৌমিক দাসের দেখা মেলেনি। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করছে, স্ত্রীকে খুন করার পর অভিযুক্ত স্বামী এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন। প্রতিবেশীদের দাবি, ওই দম্পতি অত্যন্ত অন্তর্মুখী ছিলেন এবং পাড়ার লোকজনের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না।

তদন্তে পুলিশ
খবর পেয়েই নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পারিবারিক অশান্তির জেরে এই খুন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও গভীর রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্ত অধ্যাপকের খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। অসুস্থ শিশুটির মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।