মঞ্চ ছেড়ে নিচে নামলেন মমতা! অসুস্থ মহিলার ‘পালস’ চেক করে দিলেন চিকিৎসার দাওয়াই, বেহালায় দেখালেন মানবিক রূপ

রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানেও ধরা পড়ল এক অন্য ছবি। শনিবার বেহালায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় এক মহিলা সমর্থককে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখে ভাষণ থামিয়ে দিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, মঞ্চ থেকে নিচে নেমে এসে ওই মহিলার নাড়ির গতি বা ‘পালস বিট’ পরীক্ষা করেন তিনি। মমতার এই মানবিক আচরণ এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

অসুস্থ সমর্থকের পাশে মমতা
বেহালা পূর্ব ও পশ্চিম কেন্দ্রের দুই প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায় ও শুভাশিস চক্রবর্তীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তখন চাঁদিফাটা রোদ। ভিড়ের মধ্যে এক প্রবীণ মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়লে মুখ্যমন্ত্রী তড়িঘড়ি তাঁর কাছে পৌঁছে যান। নিজের হাতে নাড়ির গতি পরীক্ষা করে তিনি বুঝতে পারেন পরিস্থিতি গুরুতর। অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি
এই ঘটনার পরই মঞ্চে ফিরে মমতা বর্তমান সময়ে হার্ট অ্যাটাক এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আজকাল হার্ট অ্যাটাক বেশি হচ্ছে, অনেকেই নিয়মিত চেকআপ করেন না। তাই আমরা এবার ব্লকে ব্লকে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তৃণমূলের ‘১০ প্রতিজ্ঞা’র কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসার সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এমপি ল্যাডের টাকা থেকে ২২৬টি অ্যাম্বুলেন্স তৈরি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বেহালায় তৃণমূল-বাম সম্মুখ সমর
এদিনের সভার আবহ ছিল বেশ টানটান। মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার ঠিক আগেই ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল সিপিএম প্রার্থী নীহার ভক্ত এবং নিলয় মজুমদারের সমর্থনে এক বিশাল মিছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বৃন্দা কারাত। সিপিএম-এর মিছিল যাওয়ার সময় তৃণমূল সমর্থকরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে এলাকা কাঁপিয়ে দেন। তবে মেজাজ হারাননি সিপিএম প্রার্থী নীহার ভক্ত, হাসিমুখে তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে দেখা যায় তাঁকে।

এদিন মঞ্চে তৃণমূল প্রার্থীদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একঝাঁক তারকা—ভরত কল, দিগন্ত বাগচী, রূপাঞ্জনা মিত্র এবং শ্রীতমা ভট্টাচার্য। নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মমতার এই ব্যক্তিগত স্তরের জনসংযোগ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।