PSC সদস্য যখন তৃণমূলের ‘ক্যাডার’! দিগন্ত বাগচীকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর, তোলপাড় রাজ্য

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের ঠিক আগে ফের উত্তাল হয়ে উঠল বাংলার রাজনীতি। এবার নিশানায় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)-এর সদস্য তথা অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। পিএসসি-র মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে থেকেও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে শাসকদলের রাজনৈতিক মঞ্চে হাজির থাকলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দুর অভিযোগ ও আক্রমণ:
বিরোধী দলনেতা তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত একটি সভায় দিগন্ত বাগচীকে মঞ্চে দেখা গেছে। শুভেন্দুর প্রশ্ন, যে সংস্থা রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়োগের দায়িত্ব সামলায়, তার একজন সদস্য যদি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করেন, তবে সাধারণ পরীক্ষার্থীরা ওই সংস্থার ওপর ভরসা রাখবেন কীভাবে?
শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা: “যাঁদের নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে কাজ করার কথা, তাঁরাই যদি তৃণমূলের ক্যাডারের ভূমিকা পালন করেন, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়ে।” তাঁর দাবি, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি (MCC) লঙ্ঘন করেছেন দিগন্তবাবু।
কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি:
ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপির দাবি, রাজ্যের প্রশাসনের একটি অংশ সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে কাজ করছে। শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং মুখ্যসচিবের কাছে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, সাংবিধানিক শালীনতা লঙ্ঘনের দায়ে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।
পাল্টা কী বলছে তৃণমূল?
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও এই নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না মিললেও, শাসকদলের একাংশ দাবি করেছে যে পুরো বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁদের মতে, কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা মানেই সরাসরি রাজনৈতিক সমর্থন নয়। বিরোধীরা নির্বাচনের সময় ফায়দা তুলতেই বিষয়টিকে অকারণে বড় করে দেখাচ্ছে।
শঙ্কিত চাকরিপ্রার্থীরা:
প্রশাসনিক মহলের একাংশও এই ঘটনায় চিন্তিত। পিএসসি-র মতো প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন সেই সমস্ত যুবক-যুবতী, যাঁরা দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই অভিযোগ প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভোটবাক্সেও।