ভোটের দিন কলকাতায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা! বুথে বুথে নামছে ২২৯টি কিউআরটি, কমিশনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ এপ্রিল কলকাতার হাইভোল্টেজ লড়াইকে কেন্দ্র করে শহরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে লালবাজার ও কমিশন। কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান এবং হুগলি—এই তিন এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবার রেকর্ড সংখ্যক কুইক রেসপন্স টিম (QRT) নামানো হচ্ছে।
কলকাতায় রেকর্ড কিউআরটি (QRT) মোতায়েন:
কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় কলকাতা পুলিশের অধীনে সবথেকে বেশি অর্থাৎ ২২৯টি কিউআরটি মোতায়েন করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভোটের দিন নজরদারি চালাতে কলকাতায় নামছে ৫৭টি ফ্লাইং স্কোয়াড (FST) এবং ৫৭টি স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিম (SST)।
জেলায় জেলায় বাহিনীর দাপট:
শুধুমাত্র শহর কলকাতা নয়, জেলাগুলোতেও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কমিশন:
পূর্ব বর্ধমান: এখানে ২২৮টি কিউআরটি এবং ৫৩টি ফ্লাইং স্কোয়াড কাজ করবে।
হুগলি গ্রামীণ: ২০৪টি কিউআরটি এবং ৩৯টি ফ্লাইং স্কোয়াড এলাকা টহল দেবে।
ডায়মন্ড হারবার: উত্তপ্ত এই এলাকায় ১১৯টি কিউআরটি নামানো হচ্ছে।
এছাড়া ব্যারাকপুরে ১৩৫টি, রানাঘাটে ১১০টি এবং আসানসোলে ১০টি কিউআরটি পাহারায় থাকবে।
রাজ্য পুলিশ ছাড়াই অ্যাকশন!
প্রথম দফার অভিজ্ঞতায় শিক্ষা নিয়ে কমিশন বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিটি ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সার্ভেলেন্স টিমে ৪ জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং ১ জন রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই থাকবেন। তবে কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো এলাকায় অশান্তি দেখা দিলে জিপিএস লোকেশন অনুসরণ করে কেন্দ্রীয় বাহিনী একাই সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। রাজ্য পুলিশ না থাকলেও বাহিনীর কাজ থমকে থাকবে না।
শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট করানোই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে অশান্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে গিয়ে দুষ্কৃতীদের দমানোই হবে এই বিশেষ টিমগুলোর প্রধান কাজ।