খালি হাতে ফিরতে হবে না আর! ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া মেটাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ এই রাজ্য সরকারের

মাসের পর মাস অপেক্ষায় কেটেছে দিন, মেলেনি প্রাপ্য টাকা। বকেয়া পাওনা নিয়ে যখন সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চমকে দিল তেলঙ্গানা সরকার। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিতে নিজেদের বেতন কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

মন্ত্রীদের বেতন হবে অর্ধেক:
বৃহস্পতিবার তেলঙ্গানা ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঠিক হয়েছে, এখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যরা তাঁদের নির্ধারিত বেতনের মাত্র ৫০ শতাংশ গ্রহণ করবেন। বেতনের বাকি অর্ধেক টাকা সরাসরি জমা হবে সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানোর তহবিলে। উল্লেখ্য, মন্ত্রীরা নিজেরাই স্বেচ্ছায় এই ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি হয়েছেন।

১৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্যাকেজ:
রাজ্য সরকার একটি ‘১০০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করেছে। এই সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকা বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের বকেয়া পাওনা প্রায় ৬,২০০ কোটি টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের বকেয়া বা এরিয়ার প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা।

কেন এই কঠিন সিদ্ধান্ত?
তেলঙ্গানা সরকার মেনে নিয়েছে যে, অবসরের টাকা পেতে দেরি হওয়ায় বহু কর্মী ও তাঁদের পরিবার চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি জানিয়েছেন, টাকার অভাবে যাতে কোনো কর্মীর জীবন থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য। ২০১৪ সালে রাজ্য গঠনের সময় কোনো এরিয়ার ছিল না, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের ঋণের বোঝা ও বকেয়া পাওনার চাপ বর্তমান সরকারকে সামলাতে হচ্ছে।

খুশির হাওয়া কর্মী মহলে:
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর ধাপে ধাপে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই বিষয়ে খুব শীঘ্রই কর্মী ইউনিয়ন ও স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনায় বসবে প্রশাসন। মন্ত্রীদের বেতনে কোপ বসিয়ে সাধারণ কর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোর এই মডেল সারা দেশে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।