সেন্ট মার্টিন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের! বছরে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ? মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের!

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হার্ডলাইনে অন্তর্বর্তী সরকার। দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটন নিয়ন্ত্রণের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা বহাল থাকছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

কেন এই কড়াকড়ি? কী বলছেন পরিবেশমন্ত্রী?

ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিবেশমন্ত্রী জানান, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপের মৃতপ্রায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তিনি বলেন, “উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য আমাদের গর্ব। একে টিকিয়ে রাখতে হলে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আর কোনো পথ নেই।”

সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের নতুন নিয়মাবলী:

সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের অধীনে পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে:

  • ভ্রমণের সময়সীমা: পর্যটকরা কেবল নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত এই তিন মাস দ্বীপে যেতে পারবেন।

  • পর্যটক সংখ্যা: প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২,০০০ জন পর্যটককে দ্বীপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

  • বিশ্রামের সুযোগ: ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৯ মাস পর্যটন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, যাতে প্রকৃতি নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারে।

বিপাকে স্থানীয় অর্থনীতি: উঠছে প্রতিবাদের ঝড়

সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা পেলেও সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেন্ট মার্টিনের অধিকাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস পর্যটন। বছরের নয় মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার কথাও সরকারকে ভাবতে হবে।

তবে পরিবেশমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, তিন মাসের বেশি পর্যটন চালু রাখলে দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। ফলে আপাতত পরিবেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার।