বোমার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত মোজতবা খামেনেই! প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়া ফেরা অসম্ভব? তেহরানের অন্দরে ঘনাচ্ছে রহস্য

ইরানের মসনদে কি তবে নিঃশব্দে ঘটে গেল বড় কোনো পটপরিবর্তন? ইজরায়েলি হামলার পর থেকে জনসমক্ষে দেখা মেলেনি ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইর। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট দাবি করছে, মোজতবা এখন কেবলই নামমাত্র শাসক। পর্দার আড়ালে দেশ চালাচ্ছে একদল দুর্ধর্ষ জেনারেল।

শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি: কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন মোজতবা?

পিতার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও মোজতবার ওপর নেমে এসেছিল ইজরায়েলি ড্রোনের প্রাণঘাতী হামলা। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে:

  • হামলায় মোজতবার একটি পা এবং হাত প্রায় অচল হয়ে গিয়েছে।

  • বোমার আগুনে তাঁর মুখ ও ঠোঁট এমনভাবে পুড়েছে যে তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না।

  • অন্তত তিনবার অস্ত্রোপচারের পরও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, জটিল প্লাস্টিক সার্জারি ছাড়া তাঁর স্বাভাবিক অবয়ব ফিরে পাওয়া অসম্ভব।

‘রাবার স্ট্যাম্প’ সর্বোচ্চ নেতা, আসল রাশ IRGC-র হাতে

শারীরিক অক্ষমতার সুযোগে তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’ বা IRGC-র জেনারেলদের দখলে। প্রাক্তন সরকারি উপদেষ্টা আবদোলরেজা দাভারির মতে, ইরান এখন কোনো দেশের মতো নয়, বরং একটি কোম্পানির মতো চলছে। যেখানে মোজতবা খামেনেই স্রেফ একজন ‘ডিরেক্টর’ আর জেনারেলরা হলেন ‘বোর্ড মেম্বার’। জেনারেলদের নেওয়া সিদ্ধান্তে স্রেফ সই করাই এখন খামেনেইর প্রধান কাজ।

ডিজিটাল দুনিয়া ত্যাগ, মোটরসাইকেলে চলছে প্রশাসন!

ইজরায়েলি ড্রোন হামলা বা গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে কোনো মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করছেন না মোজতবা। এক গোপন ডেরা থেকে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে সরকারি নির্দেশ পাঠাচ্ছেন তিনি। সেই চিঠি আবার মোটর সাইকেল বাহিনীর একটি ‘হিউম্যান চেইন’-এর মাধ্যমে হাতবদল হয়ে পৌঁছাচ্ছে গন্তব্যে। পরিস্থিতি এমন যে, খামেনেইর ডেরা চিনে ফেলার ভয়ে সরকারি আধিকারিকরাও তাঁর কাছে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

কোণঠাসা প্রেসিডেন্ট, ভেস্তে গেল শান্তি আলোচনা

সামরিক জেনারেলদের এই উত্থানে কার্যত মূল্যহীন হয়ে পড়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, জেনারেলদের আপত্তিতে তাও ভেস্তে গিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে ‘ক্ষমতা বদল’-এর দাবি করলেও রিপোর্ট বলছে, ক্ষমতা বদলায়নি; বরং ক্ষমতা এক ব্যক্তির থেকে সরে গিয়ে একদল সেনাকর্তার হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে।

ইরানের এই রহস্যময় ‘ছায়া শাসন’ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।