ভারত-নেপাল সীমান্তে নতুন নিয়ম! ১০০ টাকার সওদা করলেই দিতে হবে ট্যাক্স, মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের

ভারত ও নেপালের দীর্ঘদিনের ‘রোটি-বেটি’র সম্পর্কে কি কিছুটা হলেও চিড় ধরাচ্ছে নতুন শুল্ক নীতি? নেপাল প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে এখন এমনই চর্চা তুঙ্গে। ভারত থেকে কেনা মাত্র ১০০ নেপালি রুপির বেশি মূল্যের পণ্যের ওপর চড়া হারে কাস্টমস ডিউটি বা ‘ভনসার’ আরোপ করায় সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে রীতিমতো অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

হঠাৎ কেন এই কড়াকড়ি?

২০২৬-এর নেপালি নববর্ষের শুরু থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করেছে কাঠমাণ্ডু। নেপাল সরকারের দাবি, ব্যক্তিগত ব্যবহারের নামে সীমান্ত পেরিয়ে অবাধে চোরাচালান ও বাণিজ্যিক কারবার রুখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

  • আগে কী ছিল: ছোটখাটো কেনাকাটায় কোনো শুল্ক লাগত না।

  • বর্তমান নিয়ম: ১০০ নেপালি রুপির বেশি পণ্য হলেই ৫% থেকে শুরু করে আকাশছোঁয়া ৮০% পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

মাথায় হাত সীমান্ত ব্যবসায়ীদের

এই নতুন নিয়মের জেরে ভারত-নেপাল সীমান্তের বীরগঞ্জ, ধারচুলা, দার্জিলিং এবং বিহারের সীমান্তবর্তী বাজারগুলিতে শ্মশানের নিস্তব্ধতা। নেপালি ক্রেতারা ভারতীয় বাজারে আসা কমিয়ে দেওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভেও সামিল হয়েছেন।

ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কূটনৈতিক চাল

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলেও ভারত সরকার কিন্তু অত্যন্ত ধীরস্থির ও কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। কোনো রকম তড়িঘড়ি প্রতিক্রিয়ার বদলে নয়াদিল্লি বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে।

বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান: > সাউথ ব্লকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেপাল সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ভারতের মতে, এই সিদ্ধান্ত মূলত অবৈধ বাণিজ্য রুখতে নেওয়া হয়েছে। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের যাতে কোনো হয়রানি না হয়, সেদিকেই নজর দিচ্ছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মত

ভারত ও নেপালের উন্মুক্ত সীমান্ত কেবল বাণিজ্যের নয়, বরং গভীর সামাজিক সম্পর্কের প্রতীক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের এই শান্ত ও গঠনমূলক মনোভাব পরিস্থিতিকে জটিল হতে দিচ্ছে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই শুল্ক নীতি দুই দেশের সীমান্তবর্তী অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।