সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি! ২৭ লাখ মামলার পাহাড় সরাতে ‘আউট অফ টার্ন’ শুনানির নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

পশ্চিমবঙ্গের বহুল চর্চিত এসআইআর (SIR) মামলার শুনানিতে এদিন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মামলার জট কাটাতে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ট্রাইবুনালকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা এখন থেকে ‘আউট অফ টার্ন’ বা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানাতে পারবেন।

২৭ লাখ আবেদনের পাহাড়, নিষ্পত্তি মাত্র ১৩৬!
এদিন শুনানির শুরুতেই সরকার পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি আদালতকে জানান, ২৭ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মাত্র ১৩৬টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধান দূর করতে তিনি দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় পরামর্শ দেন যে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আবেদনকারীরা যেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হন। বিশেষ প্রয়োজনে সিরিয়াল ভেঙে অর্থাৎ ‘আউট অফ টার্ন’ পদ্ধতিতে শুনানি সম্ভব বলেও জানান তিনি।

ভোটের সাফল্য ও বিচারপতিদের প্রশংসা
মামলার আইনি তর্কের মাঝেই উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সমাপ্ত প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান, “প্রথম দফায় রেকর্ড ৯২% ভোট পড়েছে। পরিযায়ী শ্রমিকরা দলে দলে ফিরে এসেছেন নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে।”

এই তথ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নির্বাচন এবার হিংসামুক্ত হয়েছে।” প্রধান বিচারপতিও বিপুল জনঅংশগ্রহণ দেখে নিজের খুশি ব্যক্ত করেন।

“উলু খাগড়ার প্রাণ যায়”: তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য বিচারপতি বাগচীর
আইনি লড়াইয়ের মাঝে সাধারণ মানুষের হয়রানির দিকে ইঙ্গিত করে বিচারপতি বাগচী একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলু খাগড়ার প্রাণ যায়।” রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের গ্যাঁড়াকলে পড়ে সাধারণ আবেদনকারীরা যাতে পিষ্ট না হন, সেই মানবিক দিকটিই উঠে আসে তাঁর কথায়।