হঠাৎ কেন কোরান পাঠ শুরু করলেন ইয়ামি গৌতম? বিতর্কের মাঝেই ফাঁস হলো আসল সত্য!

বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমকে নিয়ে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক নতুন চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ইয়ামি কেন পবিত্র কোরান পাঠ শুরু করেছেন? তবে কোনো গুজবে কান দেওয়ার আগে জেনে রাখা ভালো, এটি অভিনেত্রীর কোনো ব্যক্তিগত ধর্মীয় সফর নয়, বরং তাঁর সাম্প্রতিক ছবি ‘হক’-এর প্রস্তুতির একটি বড় অংশ।
‘শাজিয়া বানো’ হয়ে ওঠার কঠিন যাত্রা:
ছবির পরিচালক সুপর্ণ এস বর্মা একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইয়ামি তাঁর অভিনীত ‘শাজিয়া বানো’ চরিত্রটিকে পর্দায় নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে কোনও খামতি রাখতে চাননি। সত্তর দশকের এক মুসলিম নারীর জীবন এবং তাঁর আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই ছবির চিত্রনাট্য। পরিচালক বলেন, “আমরা এই ছবির গবেষণার জন্য প্রায় দেড় বছর সময় দিয়েছি। ইয়ামি নিজেও খুব সিরিয়াস ছিলেন। সেই সময়ের পরিবেশ এবং ধর্মীয় রীতিনীতি বুঝতে তিনি পবিত্র কোরান পাঠ করেছিলেন এবং ইসলামিক আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন।”
লড়াই যখন অধিকারের:
ছবির গল্পটি আবর্তিত হয়েছে শাজিয়া নামের এক সাহসী নারীকে কেন্দ্র করে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর তাঁকে খোরপোশ দিতে অস্বীকার করলে, শাজিয়া দমে না গিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। নিজের অধিকার আদায়ের সেই কঠিন লড়াই এবং মানসিক শক্তিকে অনুভব করতেই ইয়ামি এই বিশেষ প্রস্তুতি নেন। পরিচালকের মতে, আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিনেমা বানাতে গেলে সঠিক তথ্য জানা জরুরি, আর ইয়ামি ঠিক সেটাই করেছেন।
ওটিটিতে ব্যাপক সাফল্য:
ইমরান হাশমি ও ইয়ামি গৌতম অভিনীত এই ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স-এ রীতিমতো ঝড় তুলেছে। কেবল অভিনয় নয়, চরিত্রের গভীরে গিয়ে পড়াশোনা এবং নিষ্ঠার জন্য ইয়ামির প্রশংসা করছেন ভক্তরা। পর্দায় কেবল সংলাপ নয়, হৃদয়ের অনুভূতি দিয়ে চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার এই চেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে বিনোদন জগৎ।