“সবচেয়ে কঠিন লড়াই লড়ছেন মমতাদিদি”— ফোন করে সংহতি কেজরিওয়ালের! মোদীকে নিয়ে বড় ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ করলেন আপ নেতা

প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগের রাতে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ পৌঁছে গেল দিল্লিতে। বুধবার বিকেলে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করলেন আম আদমি পার্টি (AAP)-র জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ফোনের ওপার থেকে কেবল মমতার লড়াইকে কুর্নিশ জানানোই নয়, নরেন্দ্র মোদী এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন তিনি।

কী বললেন কেজরিওয়াল? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর নিজের এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে কেজরিওয়াল লেখেন:

“এইমাত্র মমতাদিদির সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করছি। তিনি বর্তমানে ভারতের অন্যতম কঠিন লড়াইটি লড়ছেন, যা আমাদের গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এখানেই থামেননি তিনি। কেজরিওয়ালের দাবি, “সব কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান, এমনকি সিইসি (CEC)-কেও অপব্যবহার করেও নরেন্দ্র মোদীজি এবার নির্বাচনে হারবেন।”

ভবানীপুর ইস্যুতে মমতার পাশে আপ: মঙ্গলবারই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে একটি জনসভা করার অনুমতি পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেস। এই আবহে কেজরিওয়ালের ফোন এবং সংহতি বার্তা জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সমীকরণকে আরও মজবুত করল বলেই মনে করা হচ্ছে। মমতাও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, “সভা করতে না দিলেও আমি এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে চা খাব।”

কেন তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্য? রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রথম দফার ১৫২ আসনে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে কেজরিওয়ালের এই মন্তব্য অত্যন্ত সুচিন্তিত। ১. বিরোধী ঐক্য: জাতীয় স্তরে বিজেপি বিরোধী শক্তির একতা প্রদর্শন। ২. কমিশনের নিরপেক্ষতা: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ মমতা তুলছেন, তাতে সিলমোহর দিলেন কেজরিওয়ালও। ৩. বিজেপি বিরোধী প্রচার: মোদী সরকারের প্রতিষ্ঠানিক দখলের অভিযোগ তুলে সাধারণ ভোটারদের আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা।

উপসংহার: বৃহস্পতিবার যখন রাজ্যের ১৫২টি বুথে ভোটাররা লাইনে দাঁড়াবেন, তখন তাঁদের কানে বাজবে কেজরিওয়ালের এই ‘কঠিন লড়াই’ ও ‘মোদী হারবেন’ স্লোগান। এখন দেখার, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এই সমর্থন বাংলার বুথগুলোতে তৃণমূলের পালে কতটা হাওয়া টানতে পারে।