বনধের কবলে মণিপুরের সিংহভাগ! বিধায়কের মৃত্যুতে ফুঁসছে জনজাতি গোষ্ঠীগুলো, স্তব্ধ ১২ জেলার জনজীবন

এক বিধায়কের আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তির মেঘ মণিপুরের আকাশে। বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠীর ডাকা ১৩ ঘণ্টার বনধে বুধবার কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের অধিকাংশ জেলা। মণিপুরের মোট ১৬টি জেলার মধ্যে ১২টি জেলাতেই এই ধর্মঘটের প্রভাব ছিল ব্যাপক, যার ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে।
চুরাচাঁদপুরের পরিস্থিতি: ধর্মঘটের সবচেয়ে বড় প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে চুরাচাঁদপুর জেলায়। বুধবার সকাল থেকেই সেখানে ছিল এক থমথমে পরিবেশ। দোকানপাট, বাজারঘাট থেকে শুরু করে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। রাস্তায় কোনো গণপরিবহন চলেনি বললেই চলে। জনজাতি গোষ্ঠীগুলোর নেতা-কর্মীদের রাস্তার মোড়ে মোড়ে পিকেটিং করতে দেখা গেছে। জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী।
কেন এই ধর্মঘট? সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক জনপ্রিয় বিধায়কের মৃত্যুতে শোক পালনের পাশাপাশি তাঁর প্রয়াণ ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্য বা পরবর্তী দাবিদাওয়ার সমর্থনে এই বনধের ডাক দেয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী। তাঁদের অভিযোগ ও আবেগ এতটাই তীব্র যে, রাজ্যের অধিকাংশ জেলা একযোগে এই বনধকে সমর্থন জানিয়েছে।
জনজীবনে প্রভাব: ১২টি জেলায় বনধের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হয়। আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যযাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। জরুরি পরিষেবা বাদ দিলে বাকি সব ক্ষেত্রেই ছিল তালা। তবে বিকেল পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, যদিও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট।
প্রশাসনের তৎপরতা: রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, চুরাচাঁদপুর-সহ সংলগ্ন জেলাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে বনধকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি না হয়।