ভুয়ো ভোটার হলেই সোজা জেল! প্রথম দফার ভোটের আগে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

রাজ্যে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু। আগামী ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে হতে চলেছে হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই জারি হচ্ছে ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’। আর এই প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগেই ভোটারদের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রণং দেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। এবার আর শুধু বুথ থেকে বের করে দেওয়া নয়, ভুয়ো ভোটার শনাক্ত হলেই সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম ও ভোটারদের নিরাপত্তার খুঁটিনাটি দেখে নিন একনজরে:
ভুয়ো ভোটারদের জন্য অপেক্ষা করছে জেল
এতদিন ভুয়ো ভোটার ধরা পড়লে সাধারণত বুথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু এবার নিয়ম বদলেছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিচয় ভাঁড়িয়ে ভোট দিতে এলেই তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে হতে পারে ৬ মাস পর্যন্ত জেল। ভোটের কারচুপি রুখতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে।
বুথে প্রবেশের আগে ডাবল চেকিং
এবার ভোটারদের পরিচয় যাচাই করা হবে দুই ধাপে:
-
প্রথম ধাপ: বুথের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা প্রাথমিক পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন।
-
দ্বিতীয় ধাপ: এরপর বিএলও (BLO) বা বুথ লেভেল অফিসাররা চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখবেন।
জরুরি নোট: ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার কার্ডের (EPIC) মূল কপি বা কমিশনের নির্ধারিত বিকল্প পরিচয়পত্র সাথে রাখা বাধ্যতামূলক।
নিরাপত্তার দুর্গে বুথ: মোতায়েন ২৪০৭ কোম্পানি বাহিনী
প্রথম দফার ১৫২টি আসনের জন্য রেকর্ড সংখ্যক ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
-
প্রতিটি বুথে থাকবে হাফ সেকশন (৪ জন) থেকে এক সেকশন (৮ জন) জওয়ান।
-
বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে নিরাপত্তার পুরো দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে।
-
রাজ্য পুলিশ শুধুমাত্র বুথের বাইরে ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে।
ভোটারদের সুবিধায় বিশেষ ব্যবস্থা
-
অক্সিলিয়ারি বুথ: ভিড় কমাতে ৪,৬৬০টি নতুন সহযোগী বুথ তৈরি করা হয়েছে।
-
পরিষেবা: গরমে ভোটারদের স্বস্তিতে রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে পানীয় জল, শেড এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকছে। প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকছে র্যাম্প।
-
প্রবীণদের জন্য: ৮০ ঊর্ধ্ব এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য ইতিপূর্বেই বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে কমিশন।