ভোটের মুখে ‘অদৃশ্য’ করার চক্রান্ত! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে বিস্ফোরক চিঠি বিজেডি সাংসদের

ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ঝড় তুললেন বিজু জনতা দলের (BJD) সাংসদ সস্মিত পাত্র। তাঁর দাবি, ওডিশায় সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ৯.৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। এই গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখেছেন তিনি।

গণতন্ত্র কি বিপন্ন? দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সস্মিত পাত্র এই প্রক্রিয়াকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার আড়ালে ওডিশার প্রায় ১০ লক্ষ নাগরিকের ভোটাধিকার হরণ করার চেষ্টা হচ্ছে। এটি কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং একটি গভীর চক্রান্ত। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

সাংসদের চিঠিতে কী রয়েছে? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা চিঠিতে সস্মিত পাত্র বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন:

এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায়?

আদৌ কি নিয়ম মেনে এই কাজ করা হচ্ছে নাকি বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে?

স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোট প্রক্রিয়ার স্বার্থে কেন কমিশন অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করছে না?

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: ওডিশার রাজনীতিতে এই ঘটনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম যদি সত্যিই বাদ পড়ে, তবে নির্বাচনী ফলাফলে তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিজেডি-র এই অভিযোগকে ঘিরে বিরোধী শিবিরগুলিও নড়েচড়ে বসেছে। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজ্যে অভিযোগ উঠলেও, প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা বিরল।

কমিশনের ভূমিকা: যদিও এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন বরাবরই দাবি করে থাকে যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয় যাতে একজন যোগ্য নাগরিকও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

এখন দেখার, সস্মিত পাত্রের এই চিঠির পর নির্বাচন কমিশন ওডিশার ভোটার তালিকা নিয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।