বালি পাচারে এবার পুলিশের বড় কর্তা! ডিসিপি শান্তনুকে তলব ইডি-র, ফ্ল্যাটকাণ্ডে ফাঁসলেন দুই ছেলেও?

বালি পাচার ও জমি দখল কেলেঙ্কারিতে এবার সরাসরি টান পড়ল লালবাজারের অন্দরে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর স্ক্যানারে এখন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DCP) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্তার পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের প্রাক্তন জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকেও তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আগামীকালই তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে ইডি-র বিস্ফোরক রিপোর্ট: তদন্তকারীদের দাবি, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে ধৃত ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে বেআইনি জমি দখলে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতেন। ইডি আদালতে জানিয়েছে, মূলত তিনটি স্তরের জমি ছিল তাঁদের টার্গেটে:

যুগ্ম মালিকানাধীন জমি।

ভাড়াটিয়া নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে এমন জমি।

জমির মালিক রাজ্যের বাইরে থাকেন এমন সম্পত্তি।

ছেলের নামে ফ্ল্যাট ও দুর্নীতির যোগ: রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, ‘সান পাওয়ার রিয়েলিটি’ নামের একটি সংস্থা থেকে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, ওই কোম্পানি থেকেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুই ছেলের নামে দুটি ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। এছাড়া একটি বেআইনি নির্মাণও কামদারের থেকে এই পুলিশ কর্তা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, যা নিয়ে ২০১১ সাল থেকে মামলা চলছে।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ‘গোপন’ স্ট্যাটাস: তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন। ইডি সূত্রের খবর, জয় এস কামদার ডিসিপি শান্তনুকে মেসেজ করে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে থাকা একটি ছবি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মেসেজে লেখা ছিল “ডিলিট করুন”। এরপর দু’বার হোয়াটসঅ্যাপ কলও করা হয়। এই কথোপকথন কেন এবং কোন ছবি মুছতে বলা হয়েছিল, তা নিয়েই এখন জেরা করতে চাইছেন আধিকারিকেরা।

তদন্তের পরিধি: ইতিমধ্যেই কালীঘাট, ফুলবাগান, রবীন্দ্র সরোবর ও উল্টোডাঙা থানায় এই সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। বালি পাচার মামলার টাকা কীভাবে জমির ব্যবসায় খাটানো হতো এবং তাতে প্রশাসনের আর কোন কোন বড় মাথা জড়িত, তা জানতেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও সুনীল আগরওয়ালকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনা রয়েছে।