ভোট দিতে বাড়ি ফেরাই কাল! যৌন মিলনে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ‘খুন’, নৃশংসতার সীমা ছাড়াল স্বামী

ভোটের আবহে রাজ্যে যখন উৎসবের মেজাজ, ঠিক তখনই মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে ঘটে গেল এক পৈশাচিক অপরাধ। রাজস্থান থেকে ভোট দিতে বাড়ি ফিরেছিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক। কিন্তু বাড়ি ফিরেই মেতে উঠলেন রক্তক্ষয়ী উল্লাসে। অভিযোগ, যৌন মিলনে রাজি না হওয়ায় নিজের স্ত্রীকে নোড়া দিয়ে থেঁতলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেছেন তিনি।
পুরনো বিবাদ ও পৈশাচিক রাত
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের দৌলতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বেজপুরা গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম মাজিমা খাতুন (২৫)। অভিযুক্ত স্বামী ইস্তামুল আলি রাজস্থানের জয়পুরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন বছর আগে ভালোবেসেই বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই ছিল। অত্যাচারের ভয়ে মাজিমা বাবার বাড়িতেই থাকতেন। কয়েকদিন আগে ইস্তামুল ভোট দেওয়ার জন্য জয়পুর থেকে ফিরে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে শুরু করেন।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
অভিযোগ উঠেছে, রাতে ইস্তামুল তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে চান। মাজিমা তাতে বাধা দিলে হিতাহিত জ্ঞান হারান ইস্তামুল। অভিযোগ:
রাগের মাথায় মাজিমাকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে উঠোনে বের করে নিয়ে আসেন তিনি।
রান্নাঘরের ভারী নোড়া দিয়ে পিটিয়ে মাজিমার হাত-পা ও দাঁত ভেঙে দেন।
এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় শরীরের বিভিন্ন অংশে।
মাজিমা যন্ত্রণায় চিৎকার শুরু করলে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখেই চম্পট দেন ইস্তামুল।
হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যু
পরিবারের সদস্যরা মাজিমাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রস্তুতির মাঝেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তরুণী। তাঁদের দুই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত ইস্তামুল আলির খোঁজে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি। ভোটের খুশির আমেজ নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে পুরো গ্রামে।