ব্যবসায়ীই এখন পুলিশের ‘বিধাতা’! পছন্দের পোস্টিং পেয়ে জয় কামদারকে ‘MY LORD’ সম্বোধন অফিসারের!

সাধারণ মানুষের রক্ষক পুলিশ, কিন্তু সেই পুলিশেরই ভাগ্যবিধাতা হয়ে উঠেছেন এক ব্যবসায়ী! বেহালার জমি মাফিয়া ও ব্যবসায়ী জয় কামদারকে নিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর তদন্তে উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইডির দাবি, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের পোস্টিং নিয়ন্ত্রণ করতেন এই কামদার। এমনকি পছন্দের থানায় পোস্টিং পেয়ে এক অতিরিক্ত ওসি জয় কামদারকে হোয়াটসঅ্যাপে ‘My Lord’ বলে সম্বোধন করেছেন!
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে ‘মাই লর্ড’ রহস্য!
জয় কামদারের দুটি ফোন বাজেয়াপ্ত করার পর ইডি আধিকারিকদের হাতে এসেছে বিস্ফোরক সব তথ্য। উত্তর কলকাতার একটি থানার এক অতিরিক্ত ওসি কামদারকে মেসেজ করে লিখেছেন, “আপনার আশীর্বাদেই এই পোস্টিং হয়েছে, My Lord!” ইডির দাবি, এই চ্যাট থেকেই স্পষ্ট যে পুলিশের বদলি এবং পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে কামদারের প্রভাব ছিল আকাশচুম্বী। বড় বড় পুলিশকর্তাদের সঙ্গে ওঠাবসার সুযোগ নিয়ে তিনি কার্যত ‘পোস্টিং সিন্ডিকেট’ চালাতেন।
জমি জালিয়াতি থেকে ১১০০ কোটির লেনদেন
রবিবার বেহালার বাড়ি থেকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয় জয় কামদারকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়:
অবৈধ লেনদেন: তাঁর সংস্থা ‘সান এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে।
সোনা পাপ্পু যোগ: কসবার কুখ্যাত সোনা পাপ্পুর সঙ্গেও কামদারের নিবিড় আর্থিক যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। সুপ্রিম ক্রেডিট কর্পোরেশন এবং এস পি কনস্ট্রাকশনের মধ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে।
পরিবারের যোগ: আর্থিক লেনদেনের জাল ছড়িয়েছে সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর সংস্থার নামেও।
২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজত
সোমবার আলিপুর আদালত জয় কামদারকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এখন কামদারের সেই ফোন বুক খতিয়ে দেখছে, যেখানে আরও অনেক রাঘববোয়াল পুলিশ আধিকারিক এবং প্রভাবশালীদের নাম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তদন্তকারীদের মত: একজন ব্যবসায়ীর কাছে পুলিশের এই ‘নতজানু’ মনোভাব প্রমাণ করে যে অপরাধ জগতের শিকড় প্রশাসনের কতটা গভীরে পৌঁছে গিয়েছে। কামদারকে জেরা করে এই চক্রের বাকি পান্ডাদের হদিশ পেতে চাইছে ইডি।