ঘরের মাঠে মুখ পুড়ল শুভমন গিলের! মুম্বইয়ের কাছে বিধ্বস্ত গুজরাট, বোলারদের ‘শিক্ষা’ দিলেন ক্ষুব্ধ অধিনায়ক

ঘরের মাঠ, সমর্থকদের গর্জন— সবটাই ছিল গুজরাটের পক্ষে। এমনকি টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়ে প্রথম ১০ ওভারে মুম্বইকে চেপেও ধরেছিল শুভমনের বোলাররা। কিন্তু তিলক বর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরি আর বুমরা-অশ্বিনীর বোলিং আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০০ রানেই শেষ হয়ে গেল গুজরাটের ইনিংস।

কেন হারল গুজরাট? গিলের ক্ষোভ:
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বোলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অধিনায়ক শুভমন গিল। তাঁর মতে:

বোলিং ইউনিটের ব্যর্থতা: গিল বলেন, “আমরা সঠিক জায়গায় বোলিং করতে পারিনি। মাঝের ওভারে ধারাবাহিকভাবে ভালো লেন্থে বল করা দরকার ছিল, যা আমাদের বোলাররা করতে পারেনি।”

টার্গেট ছিল বেশি: গিলের মতে, এই ধীরগতির পিচে ১৬০-১৭০ রান ছিল জয়ের জন্য আদর্শ (পার স্কোর)। কিন্তু মুম্বইকে ১৯৯ রানে পৌঁছাতে দেওয়াটাই ছিল মস্ত ভুল।

ব্যাটিং বিপর্যয়: ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই সাই সুদর্শন এবং দ্বিতীয় ওভারে জস বাটলারকে হারিয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় গুজরাট।

ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: তিলক বর্মার সেঞ্চুরি
প্রথম ১০ ওভারে মুম্বই যখন ৮০ রানের নিচে ছিল, তখন মনে হচ্ছিল গুজরাট ম্যাচ পকেটে পুরবে। কিন্তু তিলক বর্মা একাই দৃশ্যপট বদলে দেন। মাত্র ৪৫ বলে ১০১ রান করে আইপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ভর করেই ৫ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে মুম্বই।

তাসের ঘর টাইটান্স ব্যাটিং:
টার্গেট তাড়া করতে নেমে গুজরাটের কোনো ব্যাটারই দাঁড়াতে পারেননি। অশ্বিনী কুমারের ৪ উইকেটের জাদুতে দিশেহারা হয়ে যায় মিডল অর্ডার। ওয়াশিংটন সুন্দর (২৬) ছাড়া আর কেউ লড়াই করার মানসিকতা দেখাতে পারেননি। অধিনায়ক শুভমন গিল নিজে করেছেন মাত্র ১৪ রান। ১৫.৫ ওভারেই ১০০ রানে গুটিয়ে যায় গুজরাট।

অঙ্ক কী বলছে? এই জয়ের ফলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স অক্সিজেন পেল ঠিকই, কিন্তু শুভমন গিলের গুজরাটকে এখন বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। টানা তিন জয়ের পর এই হার টাইটান্স শিবিরের মনোবলে বড় ধাক্কা।