নির্বাচনী ময়দান থেকে আউট সিভিক ও গ্রিন পুলিশ! কমিশনের নির্দেশে সোজা ‘পুলিশ লাইনে’ ঠাঁই, কেন এই কড়া দাওয়াই?

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সোমবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপার ও কমিশনারদের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রথম দফার ভোটের ৩ দিন আগে থেকেই রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশদের মাঠ পর্যায়ের কাজ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাঁদের স্থান হবে এখন থেকে ‘রিজার্ভ পুলিশ লাইন’।

কমিশনের নির্দেশে যা যা বলা হয়েছে:

কাজের সীমাবদ্ধতা: সিভিক বা গ্রিন পুলিশদের কোনোভাবেই সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে (যেমন—নাকা চেকিং, বুথ পাহারা বা ভিড় সামলানো) ব্যবহার করা যাবে না।

পোশাক বিধি: এই কর্মীরা ভোট দিতে পারবেন, তবে ভুলেও ইউনিফর্ম পরে লাইনে দাঁড়াতে পারবেন না। সাধারণ পোশাকে সাধারণ নাগরিকের মতোই তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।

প্রশাসনিক দায়িত্ব: নির্বাচন বাদে অন্য কোনো প্রশাসনিক বা অফিসের কাজে তাঁদের ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই জনসমক্ষে বা ভোটপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত না করে।

কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
বিরোধী দলগুলির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, স্থানীয় সিভিক ভলান্টিয়াররা অনেক ক্ষেত্রে শাসকদলের হয়ে কাজ করেন বা ভোটারদের প্রভাবিত করেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তাই আগেভাগেই এই বাহিনীকে নির্বাচনী ডিউটি থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিল কমিশন।

সরগরম রাজনৈতিক মহল
কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি পাঠিয়ে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই রদবদল এবং বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় আঘাত। অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধীরা।

বদল আমলাতন্ত্রেও
কেবল সিভিক ভলান্টিয়ার নয়, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে রাজ্যের বেশ কয়েকজন শীর্ষ আইপিএস ও আইএএস আধিকারিককেও পদ থেকে সরিয়েছে কমিশন। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বার্তা পরিষ্কার—অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে তারা কোনো আপস করবে না।

বিশেষ আপডেট: আজ ২১ এপ্রিল থেকেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের পুলিশ লাইনে রিপোর্ট করার নির্দেশ কার্যকর হতে শুরু করেছে। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে বুথ সামলানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনী।