আসল সোনার চেয়েও উজ্জ্বল! গ্রাম পিছু মাত্র ৯০ টাকার ‘বাংলাদেশি লাল সোনা’ এখন বড় আতঙ্ক, চেনার উপায় কী?

সোনার দাম যত বাড়ছে, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জালিয়াতি। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘বাংলাদেশি লাল সোনা’র (Bangladeshi Red Gold) ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এই ধাতু ২৪ ক্যারেট সোনার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল এবং এটি গলিয়ে দিলেও এর রং অবিকল আসলের মতোই থাকে। কিন্তু বাস্তবে এটি স্রেফ একটি সংকর ধাতু বা অ্যালয়।
কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই ফাঁদ?
তদন্তে জানা গিয়েছে, এই ‘বাংলাদেশি লাল সোনা’ আসলে তামা, নিকেল, দস্তা এবং টাংস্টেনের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তৈরির পর এমনভাবে পালিশ করা হয় যে, এর চাকচিক্য দেখে অভিজ্ঞ জহুরিদেরও চোখ কপালে উঠছে। বাংলাদেশে এই ধাতু গ্রাম পিছু মাত্র ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসার পর তা হাজার হাজার টাকায় গয়না হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
কেন এই সোনা বিপজ্জনক?
হলমার্কহীন: এই সোনায় কোনো বিআইএস (BIS) হলমার্ক বা এইচইউআইডি (HUID) কোড থাকে না।
পরীক্ষায় ফাঁকি: সাধারণ ঘর্ষণে এর রং যায় না, এমনকি এটি সাধারণ অ্যাসিড পরীক্ষাতেও অনেক সময় ধোঁকা দেয়।
মূল্যহীন: বিনিয়োগ হিসেবে এর কোনো মূল্য নেই। একবার কিনলে তা ফেরানোর সময় স্রেফ দস্তার দামও মিলবে না।
আসল ও নকল সোনা চেনার অব্যর্থ উপায়:
১. HUID কোড: গয়নার ওপর ৬ সংখ্যার আলফানিউমেরিক HUID কোডটি অবশ্যই পরীক্ষা করুন। ‘BIS CARE’ অ্যাপের মাধ্যমে এই কোডটি যাচাই করে নিন।
২. নাইট্রিক অ্যাসিড টেস্ট: বাড়িতে পরীক্ষা করতে চাইলে এক ফোঁটা নাইট্রিক অ্যাসিড প্রয়োগ করুন। সোনা আসল হলে কোনো পরিবর্তন হবে না, কিন্তু নকল সোনা সঙ্গে সঙ্গে সবুজ রঙ ধারণ করবে।
৩. চুম্বক পরীক্ষা: সোনা চুম্বকীয় নয়। যদি আপনার গয়না চুম্বকের দিকে সামান্যতম আকৃষ্ট হয়, তবে বুঝবেন এতে ভেজাল আছে।
৪. হলমার্ক সিল: কেবল বিআইএস হলমার্ক যুক্ত ডিলারদের থেকেই সোনা কিনুন এবং পাকা রসিদ সংগ্রহ করুন।