রটনা নাকি ভয়াবহ দুর্ঘটনা? যশপুরে বিমান ভেঙে পড়ার খবরে তোলপাড় দেশ! আসল সত্যিটা জানুন

সোমবার দুপুরে ছত্তিশগড়ের যশপুর জেলার আকাশে একটি ব্যক্তিগত বিমানকে মাটির খুব কাছাকাছি উড়তে দেখা যায়। তার কিছু পরেই পাহাড়ের ঢালে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা দিলে গোটা এলাকায় ‘প্লেন ক্র্যাশ’ বা বিমান দুর্ঘটনার খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আদতে কি কোনও বিমান ভেঙে পড়েছে? নাকি এটি নিছকই রটনা? তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

কী ঘটেছিল আসলে? স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যশপুর-নারায়ণপুর অঞ্চলের পাহাড়ের মাথায় একটি বিমান গাছে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন লেগে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় কালো ধোঁয়ার ভিডিও ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় দেশজুড়ে। অনেক সংবাদমাধ্যম এমনকি হতাহতের আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিবেদনও প্রকাশ করতে শুরু করে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও ফ্যাক্ট চেক: খবর পাওয়া মাত্রই জেলাশাসক রোহিত ব্যাস এবং এসএসপি লাল উমেন্দ সিং বিশাল উদ্ধারকারী দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করে দুর্গম জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো, কয়েক ঘণ্টার তল্লাশিতেও বিমানের কোনও ধ্বংসাবশেষ বা কারোর দেহ উদ্ধার করা যায়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে কী জানানো হল? ছত্তিশগড় রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক (MoCA) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এলাকায় কোনও বিমান দুর্ঘটনার তথ্য মেলেনি। ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনও নিখোঁজ বিমানের খবর পাওয়া যায়নি।

ধোঁয়ার রহস্য কী? জেলাশাসক রোহিত ব্যাস জানিয়েছেন, গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলের জঙ্গলে প্রায়ই দাবানল বা ‘ফরেস্ট ফায়ার’ দেখা দেয়। পাহাড় থেকে যে ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছিল, তা সম্ভবত দাবানলেরই অংশ। গ্রামবাসীরাও কোনও বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাননি বলে জানিয়েছেন।

একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি:

  • যশপুর প্রশাসন: কোনও ধ্বংসাবশেষ মেলেনি।

  • দাবি: স্থানীয়রা একটি বিমানকে নিচু হয়ে উড়তে দেখেছিলেন।

  • ফলাফল: যান্ত্রিক কোনও ত্রুটি ছাড়াই বিমানটি অন্য কোথাও চলে গেছে নাকি এটি নিছক চোখের ভুল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপাতত কোনও বিমান দুর্ঘটনার প্রমাণ না পাওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, বিষয়টি নিয়ে এখনও সতর্ক রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।