ক লিটার জ্বালানিতে কতদূর যায় যুদ্ধবিমান? মাইলেজ জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে!

আমরা যখন বাইক বা গাড়ি কিনি, তখন আমাদের প্রথম প্রশ্ন থাকে— “মাইলেজ কত?” কিন্তু একবার ভাবুন তো, আকাশ কাঁপিয়ে উড়ে যাওয়া একটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমানের মাইলেজ কত হতে পারে? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যখন ফাইটার জেটের গর্জন শোনা যাচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে— এক লিটার জ্বালানিতে ঠিক কতটা পথ পাড়ি দেয় এই রাক্ষুসে বিমানগুলো?
কিলোমিটার নয়, হিসেব হয় মিটারে! সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে আমরা প্রতি লিটারে কত কিলোমিটার পথ গেলাম তা মাপি। কিন্তু যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে হিসেবটা সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে মাইলেজ কিলোমিটারে নয়, বরং মিটারে মাপা হয়। অর্থাৎ, এক লিটার পেট্রোল দিয়ে একটি গাড়ি যে দূরত্ব অনায়াসে চলে যায়, একটি যুদ্ধবিমানের সেই পথটুকু যেতেই খরচ হয় কয়েক লিটার জ্বালানি।
১ কিলোমিটার যেতে কত তেল লাগে? গবেষণা ও তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের যুদ্ধবিমান সাধারণ উড্ডয়নের সময় এক লিটার জ্বালানিতে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ মিটার পথ যেতে পারে। তার মানে দাঁড়াচ্ছে, মাত্র ১ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে ওই বিমানটির প্রায় ২.৫ থেকে ৩ লিটার মহার্ঘ্য জ্বালানি প্রয়োজন।
যুদ্ধের সময় খরচ বাড়ে রকেটের গতিতে সাধারণ ভাবে ওড়ার চেয়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে বা ধাওয়া করতে পাইলট যখন ‘আফটারবার্নার’ ব্যবহার করেন, তখন ইঞ্জিনে অতিরিক্ত শক্তি জোগাতে হু হু করে তেল পুড়তে থাকে। সেই সময় একটি জেট বিমান প্রতি লিটারে ১০০ মিটারেরও কম দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। অর্থাৎ চোখের পলকে কয়েক লিটার জ্বালানি ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ভারী বনাম হালকা যুদ্ধবিমান সব বিমানের খিদে সমান নয়। এফ-২২ (F-22) বা সুখোই-৩০ (Sukhoi-30)-এর মতো দুই ইঞ্জিনের ভারী বিমানগুলো প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার লিটার জ্বালানি পোড়ায়। অন্যদিকে, ভারতের তৈরি তেজস (Tejas) বা সুইডেনের গ্রিপেন (Gripen)-এর মতো হালকা ও এক ইঞ্জিনের বিমানগুলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী, যা দীর্ঘক্ষণ আকাশে নজরদারির জন্য আদর্শ।
মাঝ-আকাশে রিফুয়েলিং কেন জরুরি? জ্বালানি দক্ষতার এই অভাবের কারণেই যুদ্ধবিমানগুলোকে দীর্ঘ মিশনের সময় মাঝ-আকাশে অন্য একটি ‘ট্যাঙ্কার বিমান’ থেকে তেল ভরে নিতে হয়। জ্বালানির সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে কোটি কোটি টাকার মিশন এক মুহূর্তেই বাতিল হয়ে যেতে পারে।