শুভেন্দুর দাক্ষিণ্যেই কি মমতার কুর্সি? ঝাড়গ্রামের সভা থেকে বোমা ফাটালেন বিজেপি নেতা, শোরগোল রাজ্যে!

২০২৬-এর নির্বাচনী রণক্ষেত্রে এবার ব্যক্তিগত আক্রমণের পারদ চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভা থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন তিনি। শুভেন্দুর সাফ কথা— এই শুভেন্দু অধিকারী পাশে না থাকলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনোদিনও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না।
শুভেন্দুর বিস্ফোরক অভিযোগ: এদিন জনসভায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের স্মৃতি উসকে দিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন:
“উনি ভুলে গেছেন কীভাবে সংগ্রাম করে তাঁকে এই জায়গায় বসানো হয়েছে। আজ এই শুভেন্দু অধিকারী না থাকলে আপনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না। আমি ছিলাম বলেই বাংলার মানুষ পরিবর্তন দেখেছিল। আর এখন আপনি সেই শুভেন্দুর বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছেন?”
রাজেশ মাহাতোর সমর্থনে সুর চড়ালেন শুভেন্দু: গোপীবল্লভপুরের কুড়মি সম্প্রদায়ের সেন্টিমেন্টকে উসকে দিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, তৃণমূল সরকার জঙ্গলমহলের মানুষকে শুধু বঞ্চনাই দিয়েছে। তিনি বলেন, বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোকে জয়ী করাই এখন জঙ্গলমহলের সম্মান রক্ষার প্রধান লড়াই।
ভিডিও বার্তায় একাধিক ইস্যু: শুভেন্দুর ভাষণের পাশাপাশি এদিন সোশ্যালে ভাইরাল হওয়া একাধিক ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। ময়নায় তৃণমূল প্রার্থীর পালিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে অর্জুন সিংয়ের ‘অভিষেক শিশু’ মন্তব্য— সব মিলিয়ে শাসক দলকে কোণঠাসা করার কোনো সুযোগই ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দুর দাবি, জঙ্গলমহল থেকে এবার তৃণমূল পরিষ্কার হয়ে যাবে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: শুভেন্দুর এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পালটা তোপ দেগে বলা হয়েছে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের লড়াইয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, কারো দয়ায় নয়। শুভেন্দু অধিকারী আসলে নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এসব কাল্পনিক গল্প বলছেন।”
ডেইলিয়ান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: একসময়ের সতীর্থ থেকে আজকের প্রধান শত্রু— শুভেন্দু ও মমতার এই লড়াই ২০২৬-এর ভোটে বড় নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হতে চলেছে। শুভেন্দুর এই ‘মুখ্যমন্ত্রী হওয়া’র কৃতিত্ব দাবি করা নিশ্চিতভাবেই শাসক দলের অন্দরে বির্তকের ঝড় তুলবে। জঙ্গলমহলের মাটিতে দাঁড়িয়ে এই আক্রমণ কি বিজেপিকে বাড়তি ডিভিডেন্ড দেবে? নজর থাকবে সেদিকেই।