অদিতির হলফনামায় ‘গন্ডগোল’? কমিশনকে বিশেষ রিপোর্ট জমার নির্দেশ হাইকোর্টের, বড় বিপদে সংগীতশিল্পী!

২০২৬-এর বঙ্গ নির্বাচনের মুখে আইনি জাঁতাকলে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সি। তাঁর মনোনয়ন পত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া মামলায় এবার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অদিতির মনোনয়ন এবং হলফনামা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
মামলার নেপথ্যে কী? রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রের এক নির্দল প্রার্থী অরিন্দম ঘোষ হাইকোর্টে অভিযোগ করেন যে, অদিতি মুন্সি তাঁর হলফনামায় তথ্যের ভুল দিয়েছেন এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গোপন করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করার অনুমতি দিয়েছিলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও।
হাইকোর্টের বড় নির্দেশ: এদিনের শুনানিতে আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যে:
-
অদিতি মুন্সির জমা দেওয়া মনোনয়ন পত্র এবং হলফনামা পুনরায় খতিয়ে দেখতে হবে।
-
অভিযোগের সারবত্তা কতটা, তা নিয়ে একটি হলফনামা আকারে রিপোর্ট জমা দিতে হবে কমিশনকে।
-
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই (নির্দিষ্ট তারিখ বেঁধে দিয়ে) এই রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
অদিতি শিবিরের প্রতিক্রিয়া: আদালতের এই নির্দেশের পর তৃণমূল শিবিরে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হলেও অদিতির অনুগামীদের দাবি, এটি একটি ষড়যন্ত্র। নিয়ম মেনেই সমস্ত নথি জমা দেওয়া হয়েছে এবং আইনি পথেই এর মোকাবিলা করা হবে।
ভোটের ময়দানে প্রভাব: রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে অদিতি মুন্সি অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। যদি রিপোর্টে বড় কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়ে, তবে তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল হওয়ার মতো চরম পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে হাইকোর্টের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল।
ডেইলিয়ান্ট বিশেষ বিশ্লেষণ: বাংলার নির্বাচনে মনোনয়ন ঘিরে আইনি লড়াই নতুন নয়। তবে একজন তারকা প্রার্থীর হলফনামা নিয়ে হাইকোর্টের এই ‘রিপোর্ট তলব’ নিঃসন্দেহে শাসক দলের ওপর মানসিক চাপ বাড়াবে। কমিশন কী রিপোর্ট দেয়, এখন সেটাই দেখার।