ভোটের মুখে মহাপ্রলয়! তৃণমূলের ৮০০ নেতাকে গ্রেফতারির ছক? হাইকোর্টে দৌড়ল শাসকদল!

বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এক নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দোহাই দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৮০০ জন নেতা ও কর্মীকে ‘সতর্কতামূলক’ গ্রেফতার করা হতে পারে— এই আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হল ঘাসফুল শিবির। সোমবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চে এই মর্মে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আশঙ্কায় হেভিওয়েট প্রার্থীরা: মামলাকারী আইনজীবী দানিশ ফারুকির দাবি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এই বিশাল সংখ্যক নেতাকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই তালিকায় শুধুমাত্র নিচুতলার কর্মী নন, রয়েছেন বর্তমান বিধায়ক এবং হেভিওয়েট প্রার্থীরাও। তালিকায় নাম রয়েছে:

  • উত্তরবঙ্গ: উদয়ন গুহ, পরেশচন্দ্র অধিকারী, পার্থপ্রতীম রায়, হামিদুর রহমান।

  • দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতা: রত্না চট্টোপাধ্যায়, কাজল শেখ, শেখ সুফিয়ান।

  • পুরপ্রতিনিধি: কলকাতার তিন কাউন্সিলর বাপি ঘোষ, অমল চক্রবর্তী এবং অনিন্দ্য কিশোর রাউত।

এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের স্থানীয় সংগঠকদেরও গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তৃণমূল।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কল্যাণের: এদিন প্রবীণ আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ভোটের আগে সংগঠনকে দুর্বল করতেই এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাধারণত নির্বাচনের আগে দাগী অপরাধীদের ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ করা হয়, কিন্তু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের এভাবে টার্গেট করা নজিরবিহীন। হাইকোর্ট এই মামলার অনুমতি দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

কমিশনের পালটা যুক্তি: যদিও নির্বাচন কমিশন বা বিরোধীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে যে কোনো অশান্তির উৎসকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। তবে প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি ৮০০ নেতাকে একসঙ্গে জালে তুলবে পুলিশ? নাকি এটি নিছকই রাজনৈতিক চাপানউতোর?

কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের দিকে এখন তাকিয়ে গোটা বাংলা। যদি আদালত এই গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ না দেয়, তবে ভোটের আগে বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।