“আমরা বাঙালি ছিলাম না!” ২০২৬-এর ভোটে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি স্বপন দাশগুপ্তের, বঙ্গ বিজেপি নিয়ে বড় দাবি

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পাঁচ বছর পর এক চরম সত্য স্বীকার করে নিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাসবিহারীর প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর মতে, গত নির্বাচনে বিজেপির হারের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মানুষের মনে তৈরি হওয়া একটি ধারণা— “বিজেপি কোনো বাঙালি পার্টি নয়।” তবে ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে সেই ভুল শুধরে বিজেপি এখন ‘খাঁটি বাঙালি’ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে দাবি তাঁর।

২০২১-এর ব্যর্থতার কারণ কী? টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে স্বপন দাশগুপ্ত অকপটে জানান, গত নির্বাচনে বেশ কিছু কৌশলগত ভুল ছিল। তাঁর কথায়:

  • প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল: প্রচুর পরিমাণে তারকা মুখ এবং তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের টিকিট দেওয়া হয়েছিল। যার ফলে মানুষ মনে করেছিল, তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে কোনো ফারাক নেই।

  • ‘অবাঙালি’ ইমেজ: বিরোধীদের দেওয়া ‘বহিরাগত’ তকমা মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছিল, যা সরাতে তৎকালীন নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছিল।

২০২৬-এ কীভাবে ‘খাঁটি বাঙালি’ হলো বিজেপি? স্বপন দাশগুপ্তের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবার বিজেপির প্রচার কৌশল সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলি হলো: ১. বঙ্গ ব্রিগেডের দাপট: এবার নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী বা দিলীপ ঘোষের মতো খাঁটি বাঙালি নেতারা। ২. বাইরের নেতার অভাব: প্রধানমন্ত্রী মোদী বা অমিত শাহরা সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে আসলেও, এবার ভিনরাজ্যের ছোট-মেজ নেতাদের দাপাদাপি অনেক কম। যদিও কঙ্গনা রানাউতের মতো তারকা প্রচারকদের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করেননি তিনি। ৩. সাংস্কৃতিক লড়াই: তৃণমূলের ‘মাছ-মাংস’ রাজনীতির পাল্টা হিসেবে বিজেপি প্রার্থীরাও এবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়েছেন।

বাঙালি অস্মিতা বনাম উন্নয়ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাঙালি আবেগ’ তাসকে টেক্কা দিতে বিজেপি এবার নিজেদের ‘বাঙালিয়ানা’ প্রমাণে জানপ্রাণ লড়িয়ে দিচ্ছে। স্বপনবাবুর মতে, মানুষ এবার বুঝেছে বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করতেই লড়াই করছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ভোটাররা কি সত্যিই বিজেপির এই ভোলবদল মেনে নেবেন? নাকি বাঙালির ঘরের মেয়ে বনাম বহিরাগত লড়াইয়ের পুরনো চিত্রনাট্যই ফিরে আসবে? উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে।