একই দিনে জোড়া বিপর্যয়! ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে লরি-ডাম্পারের সংঘর্ষে মৃত ৬, কান্নায় ভেঙে পড়ল এলাকা

সপ্তাহের শুরুতেই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর দিনাজপুর। জেলার দুটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৬ জন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত দ্রুত গতি এবং ওভারটেক করার প্রবণতাই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ।

অ্যাম্বুলেন্স কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রায়গঞ্জের মহাদেবপুর এলাকায়। পুলিশ জানায়, মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার সামনে থাকা একটি ধান বোঝাই লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। ডাম্পার চালক মানজারুল ইসলামকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

তবে ট্র্যাজেডি এখানেই শেষ হয়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গাজল টোল প্লাজা থেকে উদ্ধারকাজে ছুটে আসে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একটি অ্যাম্বুলেন্স। ঘটনাস্থলে এসে তারা জানতে পারেন আহত চালককে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি যখন ফেরার তোড়জোড় করছে, ঠিক তখনই একটি বিশালাকার ট্রেলার সেটিতে সজোরে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সুবল সরকার নামে এক অ্যাম্বুলেন্স কর্মীর। নিয়ন্ত্রন হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীদেরও ধাক্কা দেয়, যাতে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

মেলাফেরত গাড়িতেই বিপর্যয় অন্যদিকে, জেলার ইটাহার বাঙ্গার এলাকায় একটি মেলার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারের একটি পরিত্যক্ত ঘরে সজোরে ধাক্কা মারে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। ডাম্পারের খালাসি আজাহারুল শেখ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় তাঁর চোখ লেগে গিয়েছিল, যার ফলে চালক সম্ভবত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

তদন্তে নেমেছে পুলিশ দুর্ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ ও ইটাহার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই দিনে পরপর দুটি বড় দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা জেলায়। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে জাতীয় সড়কে নজরদারি আরও বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।