“আতঙ্কিত হবেন না!” মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেই রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখল মোদী সরকার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এবং হরমোজ প্রণালীর অস্থিরতার প্রভাবে ভারতে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তা নিয়ে আজ বড়সড় আশ্বস্ত করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানির সরবরাহ এখন সম্পূর্ণ স্থিতিশীল।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের রিপোর্টের মূল পয়েন্টগুলি:
-
রেকর্ড ডেলিভারি: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ৫৩.৫ লক্ষেরও বেশি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার সফলভাবে ডেলিভারি করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে জোগান ব্যবস্থায় কোনো বড় ঘাটতি নেই।
-
পর্যাপ্ত মজুত: কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে আগামী ২ মাসের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল (Crude Oil), পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি-র মজুত রয়েছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাবে চটজলদি আকাল হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
-
ঘরোয়া উৎপাদন বৃদ্ধি: বিদেশ থেকে আমদানিতে যাতে চাপ না পড়ে, তার জন্য দেশের রিফাইনারিগুলিতে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
-
নিরাপদ যাতায়াত: ভারতের নিজস্ব ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার ‘দেশ গরিমা’ (Desh Garima) গতকাল নিরাপদে হরমোজ প্রণালী অতিক্রম করেছে, যা জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তির খবর।
জনসাধারণের প্রতি সরকারি পরামর্শ: সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে: ১. প্যানিক বায়িং করবেন না: অযথা ভয় পেয়ে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বা গাড়ির তেল মজুত করবেন না। ২. অনলাইন বুকিং: বর্তমানে ৯৮ শতাংশ পিএফ বুকিং অনলাইন হচ্ছে এবং ৯৩ শতাংশ ডেলিভারি ওটিপি-র (DAC) মাধ্যমে হচ্ছে, যার ফলে কালোবাজারি রোখা সম্ভব হয়েছে। ৩. বিকল্প ব্যবহার: সম্ভব হলে পিএনজি (PNG) বা ইলেকট্রিক ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে এলপিজি-র ওপর চাপ কিছুটা কমে।
ব্যবসায়ীদের জন্য কড়া বার্তা
সংকটকে কাজে লাগিয়ে কোনো ডিস্ট্রিবিউটর যাতে কালোবাজারি না করতে পারে, তার জন্য গত কয়েক দিনে দেশজুড়ে ২৫০০-এর বেশি অভিযান চালিয়েছে সরকার। বহু ডিস্ট্রিবিউটরশিপ সাসপেন্ড করা হয়েছে।
উপসংহার: যদিও মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ব্যবহারে কিছুটা ধস নেমেছিল, কিন্তু ১৯ এপ্রিলের এই পরিসংখ্যান বলছে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে। রান্নার গ্যাস থেকে পেট্রোল— সবক্ষেত্রেই জোগান স্বাভাবিক করার ‘ম্যাজিক’ দেখিয়েছে কেন্দ্র।