আর্থিক অপরাধের দুনিয়ায় নয়া নাম ‘জয় কামদার’! জালিয়াতির জালে বহু নামী সংস্থা, তদন্তে গোয়েন্দারা

সম্প্রতি পুলিশ ও আর্থিক গোয়েন্দা দপ্তরের জালে ধরা পড়েছেন জয় কামদার (Joy Kamdar)। আপাতদৃষ্টিতে এক সাধারণ ব্যবসায়ী মনে হলেও, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের খতিয়ান আকাশছোঁয়া। গত কয়েক মাসে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ব্যবসায়িক লেনদেন পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা কার্যত চক্ষু চড়কগাছ।

অভিযোগের পাহাড়:

  • ১১০০ কোটির প্রতারণা: জয় কামদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থাকে বিনিয়োগের টোপ দিয়ে এবং জালিয়াতি করে প্রায় ১১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

  • বিস্ফোরক লেনদেন: তদন্তে দেখা গেছে, মাত্র ৪ মাসের মধ্যে ৫০০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। এই বিপুল টাকা কোথা থেকে এল এবং কোথায় পাঠানো হলো, তার কোনো বৈধ নথি তিনি দেখাতে পারেননি।

  • শেল কোম্পানি: অভিযোগ, জালিয়াতির টাকা সাদা করতে তিনি একাধিক ‘শেল কোম্পানি’ বা ভুয়ো সংস্থা খুলেছিলেন।

কীভাবে চলত এই প্রতারণা? জয় কামদারের কাজের পদ্ধতি বা ‘মোডাস অপারেন্ডি’ ছিল অত্যন্ত পেশাদার: ১. বিনিয়োগের টোপ: অল্প সময়ে বিপুল মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রভাবশালীদের টাকা বিনিয়োগ করাতেন তিনি। ২. জাল নথি: সরকারি বা নামী কর্পোরেট সংস্থার জাল নথি তৈরি করে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতেন। ৩. টাকা পাচার: ক্রিপ্টোকারেন্সি বা হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে ওই টাকা বিদেশের অ্যাকাউন্টে পাচার করার পরিকল্পনাও ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তদন্তের বর্তমান গতিপ্রকৃতি: নিউজ১৮ বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, জয় কামদারকে গ্রেফতারের পর তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কোনো বড় মাথার যোগ রয়েছে কি না, অথবা কোনো প্রভাবশালীর কালো টাকা এখানে খাটানো হচ্ছিল কি না— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তাঁর বাড়ি ও অফিস থেকে বেশ কিছু ডিজিটাল নথি এবং ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

উপসংহার: ২০২৬-এর এই সময়ে দাঁড়িয়ে যখন ডিজিটাল লেনদেন বাড়ছে, তখন জয় কামদারের মতো ব্যক্তিদের এই ধরণের জালিয়াতি সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে বড় বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তদন্তের জল এখন কতদূর গড়ায়, সেটাই দেখার।