“বাংলার জমি দখল করছে অনুপ্রবেশকারীরা, আর সরকার নীরব!” মেদিনীপুরের সভা থেকে মমতাকে কড়া নিশানা প্রধানমন্ত্রীর

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এসে ফের একবার বাংলার সবথেকে জ্বলন্ত ইস্যু ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ মেদিনীপুর ও বিষ্ণুপুরের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার নিজের ভোটব্যাংক অটুট রাখতে জেনেশুনে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে, যা বাংলার নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসের জন্য চরম বিপদ।”
মোদীর আক্রমণের প্রধান বিন্দুগুলি: প্রধানমন্ত্রী এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিলিমিটেশন’ তত্ত্বের পাল্টা জবাবে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন:
-
ভোটের অঙ্ক বনাম দেশের সুরক্ষা: মোদী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কাছে দেশের সুরক্ষার চেয়ে নিজেদের গদি বেশি প্রিয়। সেই কারণেই তারা সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীদের রেশন কার্ড ও পরিচয়পত্র বানিয়ে দিচ্ছে যাতে তারা তৃণমূলের ‘পারমানেন্ট’ ভোটব্যাংক হয়ে থাকে।
-
নারীর ক্ষমতায়ন বনাম তোষণ: প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একদিকে এরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করে ডিলিমিটেশনের অজুহাত দিচ্ছে, অন্যদিকে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য বাংলার মা-বোনেদের কাজের সুযোগ ও জমি হাতছাড়া হতে দিচ্ছে।”
-
জনবিন্যাসের পরিবর্তন: প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বাংলার বেশ কিছু জেলায় জনবিন্যাস (Demography) পরিকল্পিতভাবে বদলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভূমিপুত্ররা নিজেদের রাজ্যে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছেন।
নারী সংরক্ষণ বিল ও ষড়যন্ত্র: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন অভিযোগ তুলেছেন যে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা কমানোর ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি, তখন মোদী পাল্টা দাবি করেন— বিরোধীরা আসলে ‘নারী শক্তি’কে ভয় পায়। তিনি বলেন, “তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মতো দলগুলি চায় না বাংলার মহিলারা সংসদে গিয়ে নিজেদের দাবি তুলুন। তাই তারা মিথ্যাচার করে এই ঐতিহাসিক বিলকে বাধা দিচ্ছে।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর ভোটে বিজেপি ‘জাতীয়তাবাদ’ এবং ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুকে পুনরায় সামনে এনে হিন্দু ভোট মেরুকরণ করতে চাইছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে এই বক্তৃতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার হতে পারে। অন্যদিকে, মতুয়া ভোটব্যাংক এবং ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষদের নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপির এই অবস্থান অত্যন্ত সুকৌশলী।
উপসংহার: “অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়া অপরাধ, আর এর সাজা আপনাদের পেতে হবে”— মোদীর এই চরম হুঁশিয়ারি বাংলার নির্বাচনী ময়দানকে আরও তপ্ত করে তুলল। মোদীর ‘অনুপ্রবেশ’ তত্ত্ব বনাম মমতার ‘ডিলিমিটেশন’ চক্রান্ত— এই দুই পাহাড়-প্রমাণ বিতর্কের মাঝে বাংলার ভোটাররা কাকে বেছে নেন, সেটাই এখন দেখার।