‘গ্যাঁড়াকলে’ ফেলে ডিলিমিটেশনের ছক! মোদীর ভাষণকে ‘মিথ্যাচার’ বলে ধুয়ে দিলেন তৃণমূল নেত্রী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সাজা পেতে হবে’ মন্তব্যের চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই যুদ্ধংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘ভণ্ড ও কাপুরুষ’ বলে দেগে দিলেন তিনি। মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর না করার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

মমতার পাল্টা আক্রমণের মূল বিষয়গুলি:

  • ভণ্ডামির অভিযোগ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে ভাষায় বিরোধীদের আক্রমণ করছেন, তা চরম ভণ্ডামি। আপনি বলছেন বিরোধীরা বিল আটকেছে, অথচ আপনাদের হাতে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কেন ২০২৯ সালের আগে এই বিল কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না? এটা কি প্রতারণা নয়?”

  • কাপুরুষতা ও ডিলিমিটেশন: মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি সরকার আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়ন চায় না। তারা ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাসের নাম করে দক্ষিণ ভারত এবং বাংলার আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার ছক কষছে। মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এই চেষ্টাকেই মমতা ‘কাপুরুষতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

  • তৃণমূলের রেকর্ড: প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মমতা বলেন, “তৃণমূলের হয়ে কত শতাংশ মহিলা সাংসদ সংসদে আছেন, সেই পরিসংখ্যান আগে দেখুন। বিজেপি-র থেকে আমাদের শিখতে হবে না মা-বোনেদের সম্মান দেওয়া কাকে বলে।”

রাজনৈতিক আবহাওয়া: গতকাল প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন যে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মতো দলগুলি ‘পাপ’ করেছে এবং ২০২৬-এর ভোটে তার সাজা পাবে। এর জবাবে মমতা আজ স্পষ্ট করে দিলেন যে, বিজেপি-র এই ‘মোদীর গ্যারান্টি’ আসলে একটি বড় শূন্য। তাঁর মতে, সিবিআই-ইডি এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয় দেখিয়ে বিজেপি আদতে নিজেদের রাজনৈতিক কাপুরুষতাই প্রকাশ করছে।

২০২৬-এর প্রভাব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে দুই পক্ষই নারী ভোটব্যাংককে কবজা করতে মরিয়া। মোদীর ‘সুরক্ষা ও অধিকার’ তাসের জবাবে মমতা ‘আঞ্চলিক স্বার্থ ও ডিলিমিটেশন চক্রান্ত’কে অস্ত্র করছেন। মমতার এই ঝাঁঝালো মন্তব্য তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

উপসংহার: “ইশারাই কাফি, মানুষ সব বোঝে”— প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মমতার এই কড়া বার্তায় স্পষ্ট যে, আগামী দিনগুলোতে লড়াই কেবল উন্নয়ন নিয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং জাতীয় স্তরের নীতি নিয়েও চরমে উঠবে।