“আমি সিবিআই বলছি…” ফোনে এমন ধমক দিলেই সাবধান! প্রতারণা রুখতে সাধারণের জন্য নয়া সুরক্ষা কবচ আনল সিবিআই

দেশজুড়ে বাড়ছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং ভুয়ো সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে টাকা আত্মসাতের ঘটনা। সাধারণ মানুষের ভয়কে মূলধন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। এই ধরণের অপরাধের বাড়বাড়ন্ত ঠেকাতে এবং তদন্তকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এবার একগুচ্ছ নয়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)।
সিবিআই-এর নয়া সুরক্ষা কবচ: সম্প্রতি গোয়েন্দা সংস্থা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে:
-
QR কোড যুক্ত পরিচয়পত্র: এবার থেকে সিবিআই অফিসারদের পরিচয়পত্রে একটি বিশেষ কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। কোনো সাধারণ নাগরিকের সন্দেহ হলে তিনি সেই কোড স্ক্যান করে সরাসরি সিবিআই-এর সরকারি পোর্টালে গিয়ে ওই অফিসারের বৈধতা যাচাই করতে পারবেন। (অনুরূপ পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই ইডি এবং মুম্বই পুলিশ নিয়েছে)।
-
ভেরিফায়েড সমন (Summons): ইমেল বা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সমন আসল কি না তা বোঝার জন্য তাতে একটি ইউনিক কিউআর কোড এবং পাসকোড থাকবে। সিবিআই-এর অফিসিয়াল সাইটে গিয়ে সেই পাসকোড দিলেই বোঝা যাবে সমনটি আসল নাকি জাল।
-
সেন্ট্রাল হেল্পলাইন: কোনো ব্যক্তি যদি সিবিআই অফিসার পরিচয় দিয়ে টাকা দাবি করে বা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ভয় দেখায়, তবে তৎক্ষণাৎ অভিযোগ জানানোর জন্য একটি ডেডিকেটেড ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন (1930) এবং সিবিআই-এর নিজস্ব পোর্টালে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
কিভাবে সতর্ক থাকবেন? (CBI-এর পরামর্শ): তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে: ১. ভিডিও কলে গ্রেফতারি নয়: সিবিআই কখনো হোয়াটসঅ্যাপ বা স্কাইপ ভিডিও কলে কাউকে গ্রেফতার করে না বা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ করে না। ২. টাকা দাবি নয়: তদন্তের নামে সিবিআই কোনোদিনও কোনো ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করতে বলে না। ৩. ভয়েই জয়: ভয় না পেয়ে তৎক্ষণাৎ পুলিশের সাইবার সেলে অভিযোগ জানান।
পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা: রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ এবং ২০২৬-এর শুরুতে ভারতজুড়ে কেবল এই ধরণের ‘ফেক অফিসার’ স্ক্যামে কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রতারকরা। সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি সিবিআই-কে এই ধরণের মামলার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
উপসংহার: সিবিআই-এর এই হাই-টেক পরিচয়পত্র এবং যাচাইকরণ পদ্ধতি সাধারণ মানুষকে প্রতারকদের মরণফাঁদ থেকে রক্ষা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, সচেতনতাই হলো সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।