স্মার্টফোনে আধার অ্যাপ রাখা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের, হাঁফ ছাড়লেন গ্রাহকরা

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় খবর! প্রতিটি ফোনে আধার অ্যাপ (mAadhaar) প্রি-ইনস্টল বা বাধ্যতামূলক করার যে পরিকল্পনা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়েছিল, তা থেকে আপাতত সরে এল মোদী সরকার। অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের মতো বিশ্বখ্যাত স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলির আপত্তির মুখে পড়ে শুক্রবার এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের কথা জানিয়ে দিয়েছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)।

কেন এই সিদ্ধান্ত বদল? চলতি বছরের শুরুতে UIDAI আইটি মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছিল যাতে অ্যাপল ও গুগল সহ সমস্ত স্মার্টফোন নির্মাতাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিটি ফোনে আধার অ্যাপ আগে থেকেই ইনস্টল করার ব্যবস্থা করা হয়। ভারতের প্রায় ১৩৪ কোটি মানুষের কাছে ১২ ডিজিটের এই পরিচয়পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারের এই প্রস্তাবে বাদ সাধে স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি।

সংস্থাগুলির আপত্তির মূল কারণ: স্মার্টফোন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি মূলত তিনটি প্রধান সমস্যার কথা তুলে ধরেছে:

  • গোপনীয়তা (Privacy): ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা।

  • নিরাপত্তা: ফোনের অপারেটিং সিস্টেমের সিকিউরিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল টেক জায়ান্টরা।

  • খরচ বৃদ্ধি: প্রতিটি ফোনে সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে গেলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়।

বারবার হোঁচট খেল কেন্দ্র উল্লেখ্য, গত ২ বছরে মোট ৬ বার এই আধার অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করার উদ্যোগ নিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু প্রতিবারই টেক কোম্পানিগুলোর আপত্তির মুখে তা ভেস্তে যায়। শুধু আধার নয়, গত বছর টেলিকম সিকিউরিটি অ্যাপ নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পিছু হঠতে বাধ্য হয়।

সরকারের প্রতিক্রিয়া প্রযুক্তি মন্ত্রক কেন এই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করল, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও কারণ স্পষ্ট করেনি। তবে মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের মতে, অত্যাধিক প্রয়োজন না থাকলে গ্রাহকদের স্মার্টফোনে জোর করে কোনও অ্যাপ চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষে নয় সরকার। শিল্পমহলের ফিডব্যাক পাওয়ার পরই এই নমনীয় অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ফলে আপাতত স্মার্টফোনে আধার অ্যাপ রাখা বা না রাখা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীর ইচ্ছাধীন রইল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি স্বস্তি পেল, তেমনই গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিয়েও দুশ্চিন্তা কমল।