মাস্টার্স ছাড়াই করা যাবে পিএইচডি! মোদী সরকারের শিক্ষানীতিতে আমূল বদল, বড় ঘোষণা ইউজিসি-র প্রাক্তন প্রধানের

ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কার্যকর হয়েছে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020)। পাঁচ বছর পূর্ণ করার পর এই নীতি দেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে কতটা পরিবর্তন আনল? টিভি৯ ভারতবর্ষ ডিজিটালের সহযোগী প্ল্যাটফর্ম ‘এডুকেশন৯’-এর বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে বিস্ফোরক ও গঠনমূলক তথ্য তুলে ধরলেন ইউজিসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এম. জগদেশ কুমার।
পিএইচডি-তে ভর্তির সরাসরি সুযোগ
সাক্ষাৎকারে এম. জগদেশ কুমার চার বছর মেয়াদী স্নাতক প্রোগ্রামের (FYUP) ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি জানান, যে সমস্ত শিক্ষার্থী চার বছরের ডিগ্রি কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করবেন, তাদের পিএইচডি করার জন্য আর আলাদা করে মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করার প্রয়োজন হবে না। তারা সরাসরি গবেষণার কাজে যুক্ত হতে পারবেন। এর ফলে অল্প বয়সেই তরুণ প্রতিভারা গবেষণার কাজে মনোনিবেশ করতে পারবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।
আর তকমা লাগবে না ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে!
নতুন শিক্ষানীতির অন্যতম বড় অস্ত্র হলো মাল্টি-এন্ট্রি এবং মাল্টি-এক্সিট (MEME) ব্যবস্থা। অনেক সময় আর্থিক অনটন বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দিতে হয়। পুরনো ব্যবস্থায় একে ‘ব্যর্থতা’ বা ‘ড্রপ-আউট’ বলা হতো। কিন্তু এখন:
শিক্ষার্থীরা ১ বা ২ বছরের বিরতি নেওয়ার পর পুনরায় পড়াশোনা শুরু করতে পারবেন।
তাদের আগের অর্জিত ক্রেডিট নষ্ট হবে না।
কোনো নেতিবাচক তকমা ছাড়াই তারা নিজের সময়মতো শিক্ষাজীবন শেষ করার সুযোগ পাবেন।
তৈরি হয়েছে ৮৬টি নতুন কাঠামো
প্রাক্তন চেয়ারম্যানের মতে, এনইপি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। গত কয়েক বছরে স্কুল শিক্ষায় ৮৬টি এবং ইউজিসি-র অধীনে ৪৫টি নতুন প্রবিধান ও কাঠামো চালু করা হয়েছে। গ্রাম ও শহরের ডিজিটাল ডিভাইড বা পরিকাঠামোর অভাব ঘোচাতে পিছিয়ে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সময় ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এক ছাঁচে গড়া শিক্ষা নয়
জগদেশ কুমার স্পষ্ট জানান, “সবার জন্য একই সমাধান” (One size fits all) তত্ত্বে এনইপি বিশ্বাসী নয়। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যা চায় না, তারা সমালোচনামূলক চিন্তা করতে চায়, ঝুঁকি নিতে চায় এবং স্টার্টআপ বা নতুন পণ্য তৈরির মাধ্যমে স্বনির্ভর হতে চায়। এনইপি-র ব্লু-প্রিন্ট মূলত শিক্ষার্থীদের এই স্বাধীনতার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।